Facebook Twitter Instagram YouTube

উজিরপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, পদ্মা সেতু এলাকা থেকে আটক ৯


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ / ০
উজিরপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, পদ্মা সেতু এলাকা থেকে আটক ৯

বরিশালের উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জের ধরে কাওছার হাওলাদার (৩২) নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলায় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। নিহত কাওছার হাওলাদার উপজেলার আলমদী গ্রামের মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজার এলাকায় সামান্য তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। ওই সময় কাওছার হাওলাদার ও আশিকুল হাওলাদারের সঙ্গে নান্না মোল্লা, সজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা এবং তাদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার বিরোধ তৈরি হয়। অপর একটি সূত্রে জানা যায়, পূর্বে আলমদী এলাকায় সজল হাওলাদার মারধরের শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনার জের ধরে তাঁর ভাই সৌদি আরবপ্রবাসী ইকবাল হোসেন নান্না সামাজিক মাধ্যমে প্রতিশোধমূলক ও উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন। সম্প্রতি গত ২১ অক্টোবর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ইকবাল। শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজারে কাওছার হাওলাদার, আশিকুল হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের সঙ্গে ইকবাল হোসেন নান্না ও তাঁর ছেলে সাজিদ মোল্লার পুনরায় হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য আলোচনা চলছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ঘটনার পর ঢাকা থেকে একটি হাইয়েস গাড়িতে করে সজল হাওলাদার ও শামীম হাওলাদার উজিরপুরের উদ্দেশে রওনা হন। একই সময় ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ও একাধিক মোটরসাইকেলে চড়ে আরও লোকজন সাতলা এলাকায় এসে অবস্থান নেয়। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের সীমান্ত এলাকায় কাওছার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের ওপর সসংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে দুজনে পাশের বিলের পানিতে ঝাঁপ দেন এবং পরে সড়কের পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীদের ১৮ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কাওছার হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় দরজার আড়ালে আত্মগোপন করে প্রাণ রক্ষা পান রাশেদ আমিন হাওলাদার। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে এবং পরে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছারকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে জড়িতদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। উজিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার এএসআই ফয়জুল আলম জানান, আটক ব্যক্তিদের গোয়েন্দা পুলিশের কাছ থেকে উজিরপুর মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। উজিরপুর মডেল থানার এএসআই অন্তর আহমেদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলাউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট নয়জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান জোরদার রাখা হয়েছে।

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও মূল আসামিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে সাতলা এলাকায় প্রচণ্ড আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নান্না মোল্লা, সজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা, কাঞ্চন মোল্লা, সজল হাওলাদার ও শামীম হাওলাদারসহ জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ৩৭আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ৩৯

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh