Facebook Twitter Instagram YouTube

কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতির মামলায় পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ / ০
কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতির মামলায় পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ

কানাডায় অভিবাসনসংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) গত ২২ অক্টোবর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য ২৪৩টি অস্থায়ী আবাসিক ভিসার আবেদনে জাল নথি এবং মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া এবং কাজী নাফিজ আলম নামের চারজন গত ২২ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ৩ জুলাই, যখন সিবিএসএ কুইবেকের মার্সিয়ে এলাকায় একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে নিয়মিত আইন-অনুবর্তিতা যাচাই কার্যক্রম চালায়। এ সময় স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের আলামত পাওয়ায় ওই বছরের আগস্ট মাস থেকে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, কানাডার নাগরিক হিসেবে উপস্থাপিত ব্যক্তিদের আতিথ্যদাতা দেখিয়ে একটি সুপরিকল্পিত জালিয়াতির মাধ্যমে ওই ভিসার আবেদনগুলো জমা দেওয়া হয়েছিল।

২০২৫ সালের ৩ জুন তদন্তকারীরা কুইবেক ও অন্টারিওর বিভিন্ন স্থানে চারটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন। উদ্ধারকৃত নথিপত্র, কম্পিউটার সরঞ্জাম এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে পাঁচ অভিযুক্তের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিবিএসএ। তদন্তের জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটি ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে: কানাডায় মানুষের প্রবেশের ব্যবস্থা করা বা তা সহজতর করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা, অভিবাসন আবেদনে তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপনে সহায়তা করা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে প্ররোচনা দেওয়া। তবে আদালত এখনো অভিযোগগুলো যাচাই করেনি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি; বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ার পাশাপাশি অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সিবিএসএ ভিসা প্রত্যাশীদের নিজে আবেদন জমা দেওয়ার অথবা নির্ভরযোগ্য পরামর্শকের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, ভিসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রতিনিধিদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy