
বার্ষিক দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিকে এখন থেকে কোনো টার্নওভার কর দিতে হবে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যার মাধ্যমে ছোট ব্যবসায়ীদের করের বোঝা লাঘব করা হয়েছে। এনবিআরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা স্বস্তি প্রদানের লক্ষ্যেই এই করছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে টার্নওভার করের হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন দুই কোটি টাকা থেকে চার কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা প্রতিষ্ঠানের জন্য করের হার দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, চার কোটি টাকার বেশি বার্ষিক লেনদেন রয়েছে এমন কোম্পানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম টার্নওভার করের হার ১ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। আগে কিছু ব্যতিক্রম বাদে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের জন্য এই হার ১ শতাংশ ছিল, যা এখন কিছুটা শিথিল করা হলো।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দীর্ঘদিন ধরে এই ১ শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার করব্যবস্থা থেকে সরে আসার দাবি জানিয়ে আসছিল। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল, এই করব্যবস্থার কারণে মুনাফা কম হওয়া বা লোকসানে থাকা কোম্পানিগুলোকেও কর দিতে হতো, যা তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে করের হার ভিন্ন থাকবে। আয়কর আইনের ১৬৩ ধারা অনুযায়ী, সিগারেট, বিড়ি ও তামাকজাতীয় পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার কর ৩ শতাংশ, কার্বোনেটেড বেভারেজ ও মিষ্টি প্রস্তুতকারকদের ক্ষেত্রে আড়াই শতাংশ এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য দেড় শতাংশ নির্ধারণ করা আছে। এছাড়া, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রথম তিন বছর পর্যন্ত ১ শতাংশের পরিবর্তে দশমিক ২ শতাংশ হারে টার্নওভার কর প্রদানের সুযোগ পাবে, যা আগে থেকেই কার্যকর ছিল।
আপনার মতামত লিখুন :