
সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় থাকছেন। অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করার পর নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগের উপসচিব জামিলা শবনম জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পান, ফলে তারাও নবম পে-স্কেলের আওতায় থাকছেন। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদনের পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন কাঠামোয় থাকবেন কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব সে সময় বিষয়টি পরে স্পষ্ট করা হবে বলে জানিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতন কাঠামো পাচ্ছেন। নতুন স্কেলে আগের মতো ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে এবং গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। আর ভাতা একযোগে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। বর্তমানে দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের কাছ থেকে মাসিক বেতন-ভাতার আর্থিক সহায়তা পান এবং জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী শতভাগ মূল বেতন পান, ফলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে তাদের বেতন কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আসবে। এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বাড়িয়ে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা আগে মাসে নির্দিষ্ট ১ হাজার টাকা ছিল।
আপনার মতামত লিখুন :