
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বা নিট-এর প্রশ্নফাঁস এবং দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে তীব্র আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে এবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের কাছে এখন পর্যন্ত চারবার আনুষ্ঠানিক সংলাপের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
জিতেন্দ্র সিং আরও জানান, সরকার এই পুরো বিষয়টিকে কোনোভাবেই অহংকারের লড়াই হিসেবে দেখছে না। তারা বিশ্বাস করেন যে আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের একটি সুষ্ঠু সমাধান বের করা সম্ভব। এই আলোচনায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি সভাপতি জে. পি. নাড্ডাও উপস্থিত থাকবেন। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সুবিধাজনক সময় ও বিষয় উল্লেখ করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে সরকারের এই প্রস্তাবের বিপরীতে সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি) তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সংগঠনটির নেতারা সরকারের প্রস্তাবিত স্থান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, কোনো মন্ত্রীর বাসভবন বা কার্যালয়ে তারা আলোচনায় যাবেন না। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, জনতার আদালত এখন রাজপথে, তাই মন্ত্রীদের উচিত আন্দোলনস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে যন্তর মন্তরে বৈঠক সম্ভব না হলে, কাছাকাছি কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে তাদের আপত্তি নেই।
আন্দোলনকারীরা সরকারের কাছে একটি লিখিত নিশ্চয়তাও দাবি করেছেন যে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
এদিকে, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি বিশেষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে জনজীবনেও। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ১৭টি মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, যা সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্টেশনগুলো খুলে দেওয়া হয়। সিজেপির দাবি অনুযায়ী, এই আন্দোলন এখন আর কেবল দিল্লিতে সীমাবদ্ধ নেই; বিহার, গোয়া, মুম্বাই ও রাজস্থানসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তা ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি বর্তমানে একটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সুবিধাজনক সময় ও বিষয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ আলোচনায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি জে. পি. নাড্ডাও অংশ নেবেন।
আপনার মতামত লিখুন :