Facebook Twitter Instagram YouTube

সুন্দরবনের বাঘ ও অন্যান্য প্রাণীর শরীরে চার ধরনের পরজীবীর সংক্রমণ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ /
সুন্দরবনের বাঘ ও অন্যান্য প্রাণীর শরীরে চার ধরনের পরজীবীর সংক্রমণ

সুন্দরবনের বাঘের শরীরে চার ধরনের পরজীবীর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। আজ ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। শুধু বাঘ নয়, বাঘের শিকার হওয়া হরিণ, বন্য শূকর ও বানরের শরীরেও এই পরজীবীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এই সংক্রমণ বাঘকে শারীরিকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে, যার ফলে তাদের শিকার ধরার ক্ষিপ্রতা ও সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্বল হলে শিকার সক্ষমতা কমে আসবে এবং বাঘের শরীরে অপুষ্টিজনিত সমস্যা তৈরি হবে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সুলতান আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) পাঁচজন গবেষক এই যৌথ গবেষণাটি পরিচালনা করেন। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সুন্দরবনের ৬৫টি স্থান থেকে বাঘসহ বিভিন্ন প্রাণীর মল ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর পরীক্ষাগারে ৩৯৯টি নমুনা পরীক্ষা করে গোলকৃমি, ফিতাকৃমি, পাতাকৃমি ও এককোষী পরজীবীর সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ফিতাকৃমির সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি, যা ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া গোলকৃমির সংক্রমণ ৫৩ শতাংশ। গবেষণায় দেখা গেছে, বন্য শূকরে গোলকৃমির সংক্রমণ ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং এককোষী পরজীবী সংক্রমণ ছিল ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

অধ্যাপক সুলতান আহমেদ এই পরজীবীগুলোকে 'নীরব ঘাতক' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এগুলো সরাসরি মৃত্যু না ঘটালেও বাঘের অন্ত্রে থেকে পুষ্টি শোষণ করে, ফলে বাঘ অপুষ্টি ও ওজন হ্রাসের মতো সমস্যায় ভুগতে পারে। দীর্ঘদিন এই সংক্রমণ চললে বাঘের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়, যা অন্য সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া শাবকের বেঁচে থাকা ও প্রজননক্ষমতার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষণায় হরিণের মধ্যে ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ, বানরের মধ্যে ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বন্য শূকরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে গোলকৃমি ও এককোষী পরজীবীর উপস্থিতি মিলেছে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাঘের পরিপাকতন্ত্রে টক্সোকেরা ক্যাটি, এনসাইক্লোসটমা সিয়ালেনিকাম এবং লিভার ফ্লুকের মতো মারাত্মক পরজীবী পাওয়া গেছে। এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কুকুরের মধ্যে ক্যানাইন ডিস্টেম্পার ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা বাঘের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যদিও ভৌগোলিকভাবে বাঘের কুকুরের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা কম, তবুও ঝুঁকি এড়াতে সুন্দরবনের ১ কিলোমিটার এলাকা থেকে কুকুর সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। বাঘ বিশেষজ্ঞ এম এ আজিজ জানিয়েছেন, এই গবেষণায় পাওয়া তথ্য-উপাত্ত সামনে রেখে বাঘের ওপর হুমকি কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সেই কৌশলগুলো সাজাতে হবে। সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo