
সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১২৫টিতে দাঁড়িয়েছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিশ্ব বাঘ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই তথ্য জানানো হয়। ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী সিএমসি কার্যালয়ে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি) এবং সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সভাপতি মাহমুদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন, বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আইয়ুব আলী, সাংবাদিক শরীফুল্লাহ সুমন ও আমিনা বিলকিস ময়না। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কলাগাছিয়া ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুলজ দ্বীপ, পিপল্স কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুজ্জামান সুমন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম এবং হাফেজ রেজাউল করিম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখতে হলে বাঘ সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। বাঘ না থাকলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে, আর সুন্দরবন না থাকলে পুরো উপকূলীয় অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে অরক্ষিত হয়ে পড়বে। বাঘ ও মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এড়াতে ইতিমধ্যে সুন্দরবনের লোকালয়সংলগ্ন এলাকায় ২৬ কিলোমিটার জুড়ে নাইলনের ফেন্সিং বা বেড়া দেওয়া হয়েছে। তবে কেবল বন বিভাগের একক প্রচেষ্টায় সুন্দরবন রক্ষা করা সম্ভব নয়; এর জন্য উপকূলীয় এলাকার মানুষের সচেতনতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।
এর আগে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আপনার মতামত লিখুন :