
চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সেখানে প্রায় ১০ মিনিট হেফাজত আমীরের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন সরকারপ্রধান। এ সময় তিনি হেফাজত আমীরকে বুকে জড়িয়ে ধরে দোয়া চান।
বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ৯ দফা লিখিত দাবি জানানো হয়। সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমানের স্বাক্ষরিত ওই দাবিতে মহান আল্লাহ, রাসূল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিও রয়েছে।
সফরসঙ্গী নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের সময় হেফাজত নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, গত নির্বাচনে তারা যেমন বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতেও তারা সরকারের সঙ্গে থাকবেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও হেফাজতকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান, এটি ছিল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ যেখানে হেফাজত আমীর সরকারকে সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর জানান, বিএনপি জোটের প্রতি হেফাজতের সমর্থন ছিল মূলত জামায়াতে ইসলামীর আদর্শের বিরোধিতার কারণে। তিনি জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ছাড়া হেফাজতের আমীরের নেতৃত্বে সংগঠনের অধিকাংশ নেতা বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছিলেন, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ফটিকছড়িতে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী মাদ্রাসায় যান। সেখানে তিনি হেফাজতের সাবেক আমীর আল্লামা আহমদ শফী ও জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেন। মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত নির্বাচনে একসঙ্গে কাজ করার ফলে দেশকে একটি বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :