
বগুড়ার সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের চালানো এই তাণ্ডবের পর স্টেশনটির সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত বা ‘ক্লোজড ডাউন’ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে স্টেশনটিতে টিকিট বিক্রি, ক্রসিং ব্যবস্থা এবং দাপ্তরিক সেবা বন্ধ হয়ে গেলেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সোনাতলা রেল স্টেশন সংলগ্ন হরিজন পাড়ার দুর্গা মন্দির ও সড়কের পশ্চিম পাশের রেলওয়ের ফাঁকা জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছিলেন স্থানীয় বিএনপি নামধারী কয়েকজন নেতাকর্মী। কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন বা রেলওয়ের ছাড়পত্র ছাড়াই সেখানে গণশৌচাগার ও দোকানপাট তৈরির উদ্দেশ্যে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের দোহাই দিয়ে তড়িঘড়ি করে এই স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছিল, যাতে পরবর্তীতে তা ভাড়া দিয়ে ইজারা বাণিজ্য চালানো যায়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে স্টেশন থেকে বার্তা পাঠানো হলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই স্টেশনের কর্মকর্তাদের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। সোনাতলা স্টেশনের মাস্টার রবিউল ইসলাম জানান, তিনি প্ল্যাটফর্ম থেকে নিজের কক্ষে প্রবেশ করার সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ‘কৌটো বাবু’ এবং তার সহযোগী পারভেজ, শহিদুল, নয়নসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা স্টেশন মাস্টারের কক্ষে ঢুকে দরজা আটকে দেয় এবং কর্মকর্তাদের মারধর করতে থাকে। এ সময় তারা চিৎকার করে বলতে থাকে, বার্তা পাঠানোর কারণে তাদের ক্ষতি হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপর তারা স্টেশনের কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ভাঙচুর করে।
এই হামলায় গুরুতর আহত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন কর্তব্যরত দুই স্টেশন মাস্টার রবিউল ইসলাম ও আব্দুল মাজেদ, পয়েন্টসম্যান আব্দুর রহমান ও মো. সাজ্জাদুর রহমান, বুকিং সহকারী মাসুম পারভেজ এবং পোর্টার দুলাল হোসেন। এছাড়া আইডব্লিউ অফিসের কর্মচারী মো. শামীম হোসেন ঘটনার ছবি তুলতে গেলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকেও মারধর করা হয়। ঘটনার পর পুরো সোনাতলা স্টেশন এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বগুড়া রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসলাম হোসেন জানান, স্টেশন মাস্টারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ‘বাবু’ ও তার অনুসারীরা এই হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা প্রকৌশলী আসলাম হোসেনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে উচ্ছেদের ছবি ও ভিডিও মুছে দেয় এবং জিআরপি ইনচার্জকে লাঞ্ছিত করে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগীয় সদর ডপ্তরের নির্দেশে সোনাতলা রেল স্টেশনের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
বগুড়ার সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রেল কর্মকর্তারা অবৈধ স্থাপনার নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন এই ‘অপরাধে’ স্টেশনে ঢুকে তাণ্ডব চালায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এসময় দুই স্টেশন মাস্টারসহ অন্তত ৭ জন রেল কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করে বেদম মারধর করা হয়। পরে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে তাণ্ডব চালিয়ে
আপনার মতামত লিখুন :