Facebook Twitter Instagram YouTube

বিতর্ক ও প্রশ্নের মুখে তিন বছর পর বিদায় নিলেন মো. সাহাবুদ্দিন


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ /
বিতর্ক ও প্রশ্নের মুখে তিন বছর পর বিদায় নিলেন মো. সাহাবুদ্দিন

তিন বছর তিন মাস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পর শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যখন তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তখন দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাও বিস্মিত হয়েছিলেন। কারণ, সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নাম কারও ভাবনায় ছিল না। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা মিলে তাঁকে এই পদে বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে দলের ভেতরে আলোচনা ছিল। সংসদে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় পরদিনই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই ছিল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দলের জাতীয় সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ সাহাবুদ্দিন ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুদকের কমিশনার ছিলেন। বিচারক থাকাকালে খুব একটা সুনাম না থাকা এবং পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নানা দুর্নাম কুড়ানোর কারণে তাঁর মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকি তিনি দুদকের কমিশনার থাকাকালে বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির তদন্ত নিয়েও সংস্থাটি প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। ২০১৫ সালে প্রায় ২ হাজার ৩৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৫৬টি মামলা করা হলেও ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের কাউকে আসামি করা হয়নি।

দুদক আইনের ৯ ধারায় বলা আছে, দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো লাভজনক পদে নিয়োগের যোগ্য হবেন না। এই বিধানের কারণে তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়া নিয়ে আদালতে রিট হয়েছিল, তবে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেয়। দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তিনি ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান হন। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর সমালোচকেরা তাঁকে ‘এস আলমের প্রতিনিধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের মামলা নিয়েও তাঁর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। ২০১২ সালে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ২০১৪ সালে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন অভিযোগ করেন, এম বদিউজ্জামান ও মো. সাহাবুদ্দিন তদন্তটি ধামাচাপা দিয়েছিলেন। যদিও সাহাবুদ্দিন দাবি করেছিলেন যে বিশ্বব্যাংকের চাপে মামলাটি করা হয়েছিল এবং দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি।

তাঁর মেয়াদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয় শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু অক্টোবরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পদত্যাগের কোনো দালিলিক প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। এই সাংঘর্ষিক বক্তব্যের কারণে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল একে ‘মিথ্যাচার’ ও শপথ লঙ্ঘনের শামিল বলে মন্তব্য করেন। এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করে। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেও তাঁর ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলীয় সদস্যরা। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকাকালীন দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে আলাপের খবর নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo