Facebook Twitter Instagram YouTube

রাজশাহীতে ১০ ঘণ্টা অবরোধের পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক


প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ /
রাজশাহীতে ১০ ঘণ্টা অবরোধের পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) মারধর করার ঘটনায় সৃষ্ট উত্তেজনার পর অবশেষে রাজশাহীর সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে রাজশাহী রেল স্টেশন থেকে আটকে থাকা ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে শুরু করে। এর আগে সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করে রাখায় দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সোমবার রাতে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফিরছিলেন। ট্রেনের টিটিই অনৈতিকভাবে ঘুষ দাবি করলে ফোরকান তার প্রতিবাদ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টিটিই এবং তার সহযোগীরা ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন এবং তাকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীরা বিষয়টি রেলওয়ে স্টেশনে জানালেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা বিচারের দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, রেল কর্তৃপক্ষ এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ঘটনার উচ্চতর তদন্তের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী এবং রাবি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে প্রাথমিকভাবে তিনটি ট্রেনের স্টপেজ করার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট এ বিষয়ে অগ্রগতির পর্যালোচনা করতে বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধানে আরও একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় আন্দোলনকারীরা বিকাল সাড়ে তিনটায় অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, তারা তাদের ভাইয়ের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার পেয়েছেন এবং ৬ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের হেনস্তাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের অন্যান্য দাবিগুলোও মেনে নেওয়া হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh