Facebook Twitter Instagram YouTube

আবাসন শিল্পে স্থবিরতা: সরকারের ভুল নীতিতে বৈধ অর্থ হচ্ছে অপ্রদর্শিত


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২, ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ /
আবাসন শিল্পে স্থবিরতা: সরকারের ভুল নীতিতে বৈধ অর্থ হচ্ছে অপ্রদর্শিত

দেশের আবাসন শিল্পের ওপর প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল হলেও বর্তমানে এ খাত গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) সভাপতি কৃষিবিদ ড. আলী আফজাল জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ৯৫ শতাংশ আবাসন ব্যবসায়ী খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং নির্মাণ ব্যয় ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় ফ্ল্যাটের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর ফলে অধিকাংশ উদ্যোক্তা নতুন প্রকল্প নেওয়া বন্ধ রেখেছেন এবং পুরোনো প্রকল্পের লোকসানের আশঙ্কায় কাজ স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই বিপর্যয়ের পেছনে ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামল ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে দায়ী করেছেন ড. আলী আফজাল। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে অসাধু সিন্ডিকেট রিহ্যাবের অনির্বাচিত পকেট কমিটি দিয়ে আবাসন শিল্পকে ধ্বংস করেছে। নেতৃত্বের আড়ালে রিহ্যাব সদস্যদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ড্যাপ (ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান) নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, ড্যাপে বাস্তবতা-বিবর্জিত তুঘলকি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের চেয়ে ৭১ গুণ বড় হলেও তাদের জনসংখ্যা মাত্র দুই কোটি, অথচ বাংলাদেশের ছোট্ট ভূখণ্ডে ১৮ কোটি মানুষ বাস করে। ২০৫০ সালে এই জনসংখ্যা ২৫ কোটিতে পৌঁছাবে এবং ২১০০ সাল নাগাদ পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। ড্যাপ অনুযায়ী বাড়ি চারতলা ও পাঁচতলার বেশি করা না গেলে ৩৫ কোটি মানুষের আবাসনে বাংলাদেশের ১০০ শতাংশ চাষযোগ্য জমিও অবশিষ্ট থাকবে না।

কর কাঠামো ও ব্যাংক ঋণের সংকট নিয়ে তিনি বলেন, নির্মাণ খাতে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত করারোপ এবং রেজিস্ট্রেশন খরচ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। তিনি সরকারের কাছে একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানান, যাতে ঘুষ ও হয়রানি ছাড়াই ৩০ দিনের মধ্যে প্ল্যান অনুমোদন পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান ফি যদি এক লাখ থাকে তবে তা দ্বিগুণ করলেও আপত্তি নেই, কিন্তু এক লাখ দেওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে ১০ লাখ টাকা খরচ করতে চাই না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের ভুল সিস্টেমের কারণে ব্যবসায়ীরা বৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থও অপ্রদর্শিত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। ফ্ল্যাটের সরকারি মিনিমাম রেট বা মৌজা দরের সাথে প্রকৃত নির্মাণ খরচের অসামঞ্জস্যের কারণে একটি বড় অংশ অপ্রদর্শিত থেকে যায়। এভাবে প্রতি বছর প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা অপ্রদর্শিত থেকে যাচ্ছে, যা এনবিআরের হয়রানির ভয়ে ব্যবসায়ীরা পাচার করতে বাধ্য হন। এই সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh