
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫০। বর্ণাঢ্য আয়োজন ও দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) উদযাপিত হয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে দিবসটি মুখরিত হয়ে ওঠে।
সকাল সাড়ে ৯টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন তিনটি পায়রা অবমুক্ত করে দিবসের সূচনা করেন।
উদ্বোধনী পর্বের পর রুয়েট প্রাঙ্গণে শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণে দোয়া ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর অতিথিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত গবেষণা পোস্টার ও স্টার্টআপ মডিউল প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও গবেষণালব্ধ ফলাফল তুলে ধরেন। এ ছাড়া রক্তদাতা সংগঠন ‘নিরব’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাম্পেইনে বিনামূল্যে রক্ত ও চক্ষু পরীক্ষা সেবা প্রদান করা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক এতে সভাপতিত্ব করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ১৯৬৪ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরুর পর রুয়েট শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। তিনি গবেষণাকে বাস্তব সমস্যার সমাধান ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, গবেষণার লক্ষ্য শুধু প্রকাশনা নয়, বরং উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করা। এ সময় তিনি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক রুয়েটের ৬২ বছরের গৌরবময় পথচলার কথা স্মরণ করে বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রুয়েট এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি রুয়েটকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি ও ইউজিসির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিনের শেষভাগে যোহরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রুয়েটের অগ্রযাত্রা এবং প্রয়াত সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। আগামীকাল এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১ সেপ্টেম্বর রুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করে আসছে। ১৯৬৪ সালে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
আপনার মতামত লিখুন :