Facebook Twitter Instagram YouTube

আঞ্চলিক সংঘাতে উভয় সংকটে সৌদি আরব


প্রকাশের সময় : জুলাই ৩০, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ /
আঞ্চলিক সংঘাতে উভয় সংকটে সৌদি আরব

সৌদি আরব বর্তমানে এক কঠিন উভয় সংকটে নিপতিত। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রিয়াদ এই সংঘাত থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করে আসছিল। তবে তিন দিক থেকে ক্রমাগত হামলার শিকার হওয়ার পর দেশটির ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। চলতি সপ্তাহে রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরান-সমর্থিত ইরাকি প্রক্সি মিলিশিয়াদের ওপর হামলা চালিয়েছে। রিয়াদের বিশ্বাস, এই গোষ্ঠীগুলোই ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি ভূখণ্ডে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। এখন সৌদি আরবের সামনে বড় প্রশ্ন হলো—তারা কি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে, নাকি পরিস্থিতি শান্ত করতে অর্থ বা কূটনীতির পথ বেছে নেবে?

মধ্যপ্রাচ্যে পাঁচ মাস ধরে চলমান এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট বেশ জটিল। একদিকে রয়েছে ইরান এবং তাদের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) ও তাদের মিত্ররা, যার মধ্যে ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস অন্যতম। অভিযোগ রয়েছে, এই আধাসামরিক বাহিনী সৌদি আরবে প্রায় ৩০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং বর্তমানে তারাই সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু। লেবাননের হিজবুল্লাহও এই বলয়ের অংশ, তবে তারা বর্তমানে অপেক্ষাকৃত নীরব অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো। ইরান বর্তমানে তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সরিয়ে নিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের 'ভিশন ২০৩০' কর্মসূচি বর্তমানে দেশটির প্রধান চালিকাশক্তি। এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। তবে হুতিদের ড্রোন কিংবা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি এই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আবকাইক ও খুরাইসের তেল স্থাপনায় ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের হামলায় সৌদি আরবের অর্ধেক তেল রপ্তানি কয়েক দিনের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা জাতীয় অবকাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্ট করে দেয়। সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে আবকাইক তেল স্থাপনাটি আবারও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে দেখা গেছে।

তেল রপ্তানি এখনো সৌদি অর্থনীতির মূল ভিত্তি। ফেব্রুয়ারিতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর রিয়াদ তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু টার্মিনাল ব্যবহার করে বিকল্প পথে তেল রপ্তানি শুরু করে। তবে ১৩ই জুলাই সানার বিমানবন্দরে সৌদি হামলার জবাবে হুতিরা আভা ও জিজান বিমানবন্দরে পাল্টা হামলা চালায়। হুতিরা এখন লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে, যা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে এবং এশিয়ায় তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করছে। সাত বছর ধরে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সফল না হওয়া এবং ২০২২ সালের নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির পর, সৌদি আরব এখন আবারও উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিক থেকে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মুখে পড়েছে। ভিশন ২০৩০-এর পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় এমন সংঘাতময় পরিস্থিতির কথা কেউ কল্পনাও করেনি।

কে কাকে আক্রমণ করছে, কেন?প্রথমে কিছু প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন। পাঁচ মাস ধরে উপসাগরীয় অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অংশে চলমান সংঘাতে মূলত দুটি পক্ষ রয়েছে। একদিকে রয়েছে ইরান এবং তাদের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)। তাদের মিত্রদের মধ্যে রয়েছে ইয়েমেনের হুতিরা। তারা ২০১৪ সালে দেশটির বড় একটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ছাড়া ইরানের সমর্থন রয়েছে ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস-এর প্রতি। অভিযোগ রয়েছে, এই আধাসামরিক বাহিনী সৌদি আরবের ওপর প্রায় ৩০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং এখন তারাই সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু। আরও রয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি এখনো শক্তিশালী হলেও বর্তমানে অপেক্ষাকৃত নীরব অবস্থানে রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin