
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই ব্যক্তিগত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি এ কথা জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেছেন যে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট তথ্য তার কাছে নেই। তিনি জানান, দেশের বাইরে অবস্থান করায় এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। তবে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মতো তিনিও বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছেন। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি কী সিদ্ধান্ত নেবেন সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই এবং এ নিয়ে মন্তব্য করা অনুমাননির্ভর হবে।
চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংককে যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও চিকিৎসাজনিত কাজ শেষ হওয়ায় তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরে এসেছেন। তার এই সফর সংক্ষিপ্ত করে ফেরার ঘটনায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগসংক্রান্ত আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার সংবিধানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তৎকালীন স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :