Facebook Twitter Instagram YouTube

সূর্যের অজানা রূপের দেখা মিলল শক্তিশালী টেলিস্কোপের ছবিতে


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৬, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ /
সূর্যের অজানা রূপের দেখা মিলল শক্তিশালী টেলিস্কোপের ছবিতে

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো সূর্যের দৃশ্যমান পৃষ্ঠ বা ফটোস্ফিয়ারে অতিক্ষুদ্র ঘূর্ণাবর্ত বা ভর্টেক্স আকৃতির গঠন শনাক্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর টেলিস্কোপ ‘ড্যানিয়েল কে. ইনোউয়ে সোলার টেলিস্কোপ’ দিয়ে ধারণ করা উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে সূর্যের উত্তপ্ত প্লাজমার এই অস্থিরতা ধরা পড়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য জানানো হয়। ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরি, ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন।

গবেষণায় সূর্যের প্রায় ১৪ লাখ কিলোমিটার ব্যাসের মধ্যে মাত্র ১০০ কিলোমিটার পুরু স্তরের সূক্ষ্ম গঠন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। টাইম-ল্যাপস ভিডিও ও স্থিরচিত্রে দেখা গেছে, সূর্যের অতিউত্তপ্ত প্লাজমার মধ্যে ১৯ থেকে ১৭০ কিলোমিটার ব্যাসের ছোট ছোট ঘূর্ণাবর্ত প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে। ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও গবেষণার সহ-প্রধান লেখক ড. ফ্রিডরিখ ভ্যোগার জানান, কোনো নক্ষত্রের পৃষ্ঠে ‘কেলভিন-হেলমহোল্টজ অস্থিতিশীলতা’ শনাক্ত করার ঘটনা এটিই প্রথম। ভিন্ন গতিতে চলা দুটি প্লাজমা স্তরের মিথস্ক্রিয়ার ফলে এই ঘূর্ণি তৈরি হয়, যা অনেকটা বাতাসের প্রভাবে সমুদ্র বা হ্রদে ঢেউ তৈরির প্রক্রিয়ার মতো।

বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্লাজমার প্রবাহ এই অস্থিতিশীলতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। গবেষণার আরেক সহ-প্রধান লেখক ড. ডেভিড কুরিদজে বলেন, সূর্য অত্যন্ত গতিশীল একটি নক্ষত্র। সেখানে নিয়মিত শক্তিশালী চৌম্বকীয় ঘটনা ও বিস্ফোরণ ঘটে, তবে এসব বিস্ফোরণের সূচনা কীভাবে হয় তা এখনো সৌর পদার্থবিজ্ঞানের বড় প্রশ্ন। নতুন এই আবিষ্কার সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। গবেষকদের ধারণা, এই ঘূর্ণিগুলো সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রকে পাকিয়ে বিপুল শক্তি সঞ্চয় করে এবং পরবর্তীতে হঠাৎ মুক্ত হয়ে সৌর শিখা বা করোনাল মাস ইজেকশনের মতো শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায়। এসব ঘটনার প্রভাবে পৃথিবীর জিপিএস, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হতে পারে।

ড. ভ্যোগার এই আবিষ্কারকে সৌর পদার্থবিজ্ঞানের জন্য এক যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। গবেষকদের মতে, সূর্যের পৃষ্ঠের এই ঘূর্ণিগুলো নান্দনিকভাবে ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের ‘দ্য স্টারি নাইট’ কিংবা জাপানি শিল্পী হোকুসাইয়ের ‘দ্য গ্রেট ওয়েভ অফ কানাগাওয়া’ চিত্রকর্মের বাঁকানো ঢেউয়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ভবিষ্যতে এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে সূর্যের আরও সূক্ষ্ম আচরণ পর্যবেক্ষণ সম্ভব হবে, যা সৌর ঝড়ের পূর্বাভাসকে আরও নির্ভুল করে পৃথিবীর প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো সুরক্ষায় সহায়তা করবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh