Facebook Twitter Instagram YouTube

২০২৭ সাল থেকে প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে পরীক্ষা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৬, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ /
২০২৭ সাল থেকে প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে পরীক্ষা

অভিভাবকদের আপত্তির মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে প্রথম শ্রেণির বাইরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করা হবে। যদিও এই পরীক্ষার ধরন বা কাঠামো কেমন হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। একই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে যে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে।

এর আগে গত ১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে খুব সাধারণ একটি পরীক্ষা নেওয়া হবে, যা জটিল হবে না। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সে সময় জানানো হয়েছিল, সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই লটারির প্রচলিত ব্যবস্থা বাতিল করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। শিশুদের ওপর ভর্তি পরীক্ষার চাপ, কোচিংনির্ভরতা, প্রশ্নফাঁস এবং ভর্তিকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই লটারি ব্যবস্থা চালু করা হয়। পরবর্তীতে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

এদিকে, প্রথম শ্রেণিতে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালুর ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশ এর বিরোধিতা করে আসছেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ ভর্তি পরীক্ষাকে শিশুদের জন্য বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, কোচিং বা প্রাইভেট পড়া শিক্ষার্থীরাই এই ধরনের পরীক্ষায় এগিয়ে থাকে, যা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের বঞ্চিত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনও পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুদের মেধা যাচাইয়ের সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে আবারও কোচিং বাণিজ্য ফিরে আসবে এবং ছোট শিশুদের ওপর নেতিবাচক মানসিক প্রভাব পড়বে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh