Facebook Twitter Instagram YouTube

সন্ত্রাসবাদের তকমা ঘুচল সিরিয়ার, ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটন


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৫, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ /
সন্ত্রাসবাদের তকমা ঘুচল সিরিয়ার, ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটন

দীর্ঘ সাড়ে চার দশকেরও বেশি সময় পর সিরিয়াকে 'সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা' রাষ্ট্রের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসকে এই বিষয়ে অবহিত করার পর, ৪৫ দিনের আবশ্যিক পর্যালোচনা শেষে সোমবার থেকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়েছে।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে 'ঐতিহাসিক' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তিনি বলেন, ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এই সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে উল্লেখ করেন যে, সিরিয়া এখন তার বেদনাদায়ক অতীত পেছনে ফেলে উন্নয়ন ও দেশ গড়ার যুগে প্রবেশ করছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ থেকে সিরিয়াকে পুরোপুরি দূরে রাখার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট শারার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ও ইতিবাচক পদক্ষেপের স্বীকৃতি হিসেবেই এই তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাবেক সশস্ত্র গোষ্ঠী 'আল-নুসরা ফ্রন্ট' বা 'হায়াত তাহরির আল-শাম' (এইচটিএস)-এর ওপর থেকেও বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

১৯৭৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল-আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদদ দেওয়ার অভিযোগে সিরিয়াকে এই কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল ওয়াশিংটন। দীর্ঘ সময় এই তালিকায় থাকায় সিরিয়া কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে ছিল, যা দেশটির আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক কিম্বারলি হ্যালকেট জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সিরিয়ার প্রায় পাঁচ দশকের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটল। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কৌশলগত লক্ষ্য রয়েছে—দেশটিকে ইরান ও রাশিয়ার প্রভাব বলয় থেকে বের করে আনা।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সাফওয়াত রাসালান এবং অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বারনিহ এটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া সিরিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত টম বারাকও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি সন্ত্রাসবাদের উৎস থেকে বেরিয়ে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ের অংশীদার হয়ে ওঠার পথে সিরিয়ার একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh