
বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়লেন তাওহীদ হৃদয়। পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টের শেষ দিনে অপরাজিত ৩৫০ রানের এক অনবদ্য ইনিংস উপহার দেন বাংলাদেশ 'এ' দলের অধিনায়ক। ৪৮১ বল মোকাবিলা করে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করার পরপরই ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করা হয়। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বীকৃত পর্যায়ে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড স্থাপন করলেন।
এর আগে বাংলাদেশের হয়ে স্বীকৃত ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডটি ছিল তামিম ইকবালের। ২০২০ সালে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে পূর্বাঞ্চলের হয়ে ৪২৬ বল খেলে ৩৩৪ রানের ইনিংসটি খেলেছিলেন বর্তমান বিসিবি সভাপতি। ছয় বছর পর সেই রেকর্ড টপকে ২৫ বছর বয়সী হৃদয় এখন সবার উপরে। তার ঐতিহাসিক ইনিংসটি সাজানো ছিল ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কায়।
ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে ৩৩৯ বলে ২০৪ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। শেষ দিনে তিনি তার ইনিংসকে সাড়ে তিনশ পর্যন্ত নিয়ে যান। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাড়ে তিনশ রানের গণ্ডি স্পর্শ করার অনন্য কৃতিত্ব দেখালেন তিনি।
হৃদয় এই ম্যাচে ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকানোর মাধ্যমে দেশের বাইরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই মাইলফলক স্পর্শ করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের তৃতীয় খেলোয়াড় তিনি। এর আগে ২০০৭ সালে ফতুল্লায় বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ৬০৯ বলে ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রকিবুল হাসান।
রেকর্ড গড়ার এই যাত্রায় হৃদয় আরেকটি বিরল কীর্তি স্থাপন করেছেন। ট্রিপল সেঞ্চুরির ঠিক আগের দিনই তিনি দেশের বাইরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছিলেন। এর আগে দেশের বাইরে ডাবল সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব ছিল শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ (২০০৩ সালে করাচি, ২১৮), মুশফিকুর রহিম (২০১৩ সালে গল, ২০০) এবং সাকিব আল হাসানের (২০১৭ সালে ওয়েলিংটন, ২১৭)।
আপনার মতামত লিখুন :