
যশোরের দুঃখখ্যাত অভয়নগর উপজেলার ভবদহ অঞ্চলে টানা বর্ষণের ফলে আবারও তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক এবং বীজতলার মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা নতুন করে চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। প্রতি বছর প্রায় ছয় মাস পানিবন্দি থাকা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এবারের বর্ষা মৌসুম আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের ফলে স্থায়ী সমাধানের আশা থাকলেও বর্ষার শুরুতেই অতিবৃষ্টির কারণে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পের সুফল নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা লিপটন সরদার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে উপজেলার ২২০টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৭ কোটি টাকা।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতা ইকবাল জাহিদ জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে খর্ণিয়া ব্রিজের দক্ষিণে অস্থায়ী বাঁধের কারণে পলি জমে প্রায় সাত কিলোমিটার নদীপথ ভরাট হয়ে যাওয়াকে দায়ী করেছেন। তিনি শুধু নদী খনন নয়, বরং টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জি জানিয়েছেন, খর্ণিয়া এলাকায় ড্রেজিং কাজ বিলম্বিত হওয়ায় পানি নিষ্কাশনে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমানে ৯টি স্লুইস গেট খোলা রাখা হয়েছে এবং পানির উচ্চতা ইতিমধ্যে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি কমেছে। ভারী বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বসতবাড়ি ও সড়ক থেকে পানি নেমে যাবে। পর্যায়ক্রমে ২৯টি স্লুইস গেট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আরও ১১টি গেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সব গেট চালু হলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতির আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :