
ভারতের মধ্যপ্রদেশের পান্নায় পরিত্যক্ত একটি খনিতে মাটি খুঁড়তে গিয়ে ১৭.৯৬ ক্যারেটের একটি বিশালাকার ও অত্যন্ত মূল্যবান হীরা খুঁজে পেয়েছেন সাতজন দরিদ্র শ্রমিক। যার বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ৫০ লাখ ভারতীয় রুপি। এ ঘটনার পর রাতারাতি ভাগ্য বদলে গেছে ওই শ্রমিকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে অখিলেশ পালসহ সাতজন শ্রমিক মিলে পান্নার সারোখা গ্রামে একটি খনি ইজারা নিয়েছিলেন। সাধারণত ধনী ব্যবসায়ীরা এসব জমি ইজারা নিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করেন, ফলে হীরা পাওয়া গেলেও লভ্যাংশ শ্রমিকরা পান না। তবে এবার সরাসরি নিজেরা ইজারা নেওয়ায় পুরো ভাগ্যই বদলে গেল এই শ্রমিকদের। কোনো মূল্যবান পাথরের সন্ধান না পাওয়ায় এক বছর খনিটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি পাশে আরেকটি খনিতে কাজ শুরু করার পর, বৃষ্টির মধ্যে পুরোনো খনিটি পর্যবেক্ষণ করতে যান অখিলেশ। তখনই হঠাৎ তার চোখে পড়ে চকচক করতে থাকা এই হীরাটি।
হীরাটি পরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত উচ্চমানের এবং ১৭.৯৬ ক্যারেটের এই হীরার প্রতি বিশ্বের বড় বড় ব্যবসায়ীদের গভীর আগ্রহ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, হীরাটি বর্তমানে সরকারি সংগ্রহশালায় জমা রাখা হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসে সরকারি উদ্যোগে এটি নিলামে তোলা হবে। নিলামে এর বাজারমূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ থেকে সরকারি কর এবং রয়্যালটি কেটে নেওয়ার পর বাকি পুরো টাকাটাই পাবেন ওই সাত শ্রমিক। এই অভাবনীয় প্রাপ্তি তাদের জীবনের অন্ধকার দূর করবে বলে আশা করছেন তারা। শ্রমিকদের মধ্যে তিনজন জানান, চরম অর্থাভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা বিয়ে করতে পারছিলেন না। এখন হীরা বিক্রির লভ্যাংশ পেয়ে সংসারের সব অভাব দূর করে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা। এদিকে ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে স্থানে এই হীরাটি পাওয়া গেছে, সেখানে আরও বড় হীরার খনি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে আরও অনুসন্ধান চালালে দেশের অর্থনীতিতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :