Facebook Twitter Instagram YouTube

সম্প্রীতি ও মানবপ্রেমই প্রকৃত ধর্মচর্চার শিক্ষা: তথ্যমন্ত্রী


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৪, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ /
সম্প্রীতি ও মানবপ্রেমই প্রকৃত ধর্মচর্চার শিক্ষা: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রকৃত ধর্মবিশ্বাসীরা কখনোই অন্য ধর্মের বিশ্বাসকে অসম্মান করেন না। শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, সকল ধর্মের মানুষই নিজ নিজ উপায়ে পরম করুণাময়ের সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করেন, তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবপ্রেমের ভিত্তিতে ধর্মীয় বিশ্বাস ধারণ করাই প্রকৃত ধর্মচর্চার শিক্ষা।

পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের মহাপুরুষদের আরাধনার পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আল্লাহ, ঈশ্বর বা ভগবান—যে নামেই ডাকা হোক না কেন, প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ অন্য সব ধর্মবিশ্বাসীর ঈশ্বরপ্রেমকে সমানভাবে সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রাকে মানুষের সঙ্গে ঈশ্বরপ্রেমের অনন্য বন্ধনের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। একইভাবে ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম, বৌদ্ধধর্মসহ প্রতিটি ধর্মের আচারগুলোই সর্বশক্তিমানের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মসমর্পণের বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সামাজিক সম্প্রীতির ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করেন যে, কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের তিনি জাতি, ধর্ম ও মানবতার শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

মন্ত্রী বলেন, নিজের ধর্মবিশ্বাসে অবিচল থেকে অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই একটি অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা পাহাড়-সমতলের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন সরকার মেনে নেবে না। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনে সকল জনগোষ্ঠী একটি অভিন্ন পরিচয়ে আবদ্ধ।

স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম উল্টো রথযাত্রা মহোৎসবের উদ্বোধন করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh