Facebook Twitter Instagram YouTube

ঢাবি টিএসসিতে ‘ফিমেল জোন’ উদ্বোধন ঘিরে ক্যাম্পাসে বিতর্ক


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৪, ২০২৬, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ /
ঢাবি টিএসসিতে ‘ফিমেল জোন’ উদ্বোধন ঘিরে ক্যাম্পাসে বিতর্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ক্যাফেটেরিয়ায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ‘ফিমেল জোন’ চালুর পর থেকে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার এই জোনটি উদ্বোধনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ পুরো ক্যাম্পাসে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা।

উদ্যোগটির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ক্যাফেটেরিয়া ও রিডিং রুম সম্পাদক উম্মে সালমা জানান, ডাকসুর কার্যকাল থেকেই অনেক ছাত্রী টিএসসিতে নামাজের জায়গা উন্নয়ন এবং ক্যাফেটেরিয়ায় নিজেদের জন্য আলাদা বসার জায়গার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, অনেক সময় শাড়ি বা গাউন পরিহিত অবস্থায় পোশাক ঠিক করার জন্য আলাদা জায়গার প্রয়োজন হয়। ডাকসুর অধীনে থাকা কমন রুম বা রিডিং রুমের মতো টিএসসি ক্যাফেটেরিয়াতেও সেই সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো কম্বাইন্ড বসার জায়গা দখল করছি না। আবার কোনো মেয়েকেও ফিমেল জোনে যেতে বাধ্য করছি না। আমরা খুবই ছোট পরিসরে, মাত্র একটি টেবিল ঘিরে এই ফিমেল জোন করেছি।’ তার মতে, যারা সমালোচনা করছেন, তারা রাজনৈতিক কারণে এটিকে ভিক্টিমাইজ করার চেষ্টা করছেন এবং এটি তাদের হীনম্মন্যতার বহিঃপ্রকাশ।

অন্যদিকে, একদল শিক্ষার্থী এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলছেন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা জায়গা তাদের আপত্তির কারণ নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসুর অগ্রাধিকার নির্ধারণ নিয়ে তাদের প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, টিএসসির নারী ওয়াশরুমের অপরিচ্ছন্ন অবস্থা, স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিনের অকার্যকারিতা, হ্যান্ডওয়াশের সংকট এবং পর্যাপ্ত বসার জায়গার অভাবের মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান না করে কেন আলাদা কর্নার চালুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলো।

এ নিয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, শিক্ষার্থীরা যেখানে স্যানিটেশন হাইজিনের অভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেখানে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করা ডাকসুর জন্য কতটা যৌক্তিক। এছাড়া বিএনপি সমর্থিত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলমও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করে ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন এমন আলাদা জোন থাকবে, তা তার বোধগম্য নয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo