Facebook Twitter Instagram YouTube

৮০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করল মার্কিন প্রশাসন


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৪, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ /
৮০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করল মার্কিন প্রশাসন

আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ককে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন খাত সুরক্ষার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং অন্যান্য দেশের তথাকথিত ‘অন্যায্য’ বাণিজ্যনীতি মোকাবিলা করা সম্ভব। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মার্কিন প্রশাসন বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ৮০টিরও বেশি দেশের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা পূর্বের ১০ শতাংশের সার্বজনীন শুল্কের বদলে একটি বিস্তৃত নীতি হিসেবে কার্যকর হবে।

নতুন এই শুল্কের আওতায় যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্যরাষ্ট্রসহ ৮০টিরও বেশি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হবে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা অনুযায়ী এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। তার ভাষ্যমতে, এই ধারাটি মূলত জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয় এবং এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের বিকৃতি দূর করতে সহায়ক হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে কানাডা। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রম মোকাবিলায় কানাডা বিশ্বে অন্যতম অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে, তাই তাদের লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী সহসভাপতি ম্যাথিউ হোমস মন্তব্য করেছেন যে, এ ধরনের সমস্যা সমাধানে বহুপক্ষীয় উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

নতুন এই শুল্কনীতি নিয়ে আইনি বিতর্কও তুঙ্গে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, শান্তিকালীন সময়ে এ ধরনের বিস্তৃত শুল্ক আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প আইনি ভিত্তিতে সাময়িক শুল্ক আরোপ করেছিল, কিন্তু সেটির মেয়াদ শুক্রবার শেষ হয়ে যায়। এখন ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হলো। বাণিজ্য বিশ্লেষক ও পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালান উলফের মতে, বর্তমান শুল্ক সিদ্ধান্তটিও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, কারণ সংবিধান অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতেই ন্যস্ত।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin