Facebook Twitter Instagram YouTube

উত্তরায় জুলাই শহীদ নারী মঞ্চের ভাস্কর্য কালো কাপড়ে ঢাকা কেন?


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ৭:১৮ পূর্বাহ্ণ /
উত্তরায় জুলাই শহীদ নারী মঞ্চের ভাস্কর্য কালো কাপড়ে ঢাকা কেন?

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি গোলচত্বরে অবস্থিত 'জুলাই শহীদ নারী মঞ্চ'-এর ভাস্কর্যগুলো বর্তমানে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী নারীদের আত্মত্যাগ ও সাহসকে স্মরণীয় করে রাখতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন এই চত্বরে মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়। তবে বর্তমানে ভাস্কর্যগুলো কেন এভাবে ঢেকে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা একটি ছবিতে দেখা যায়, মাঝের ওই স্তম্ভে ১০ জন নারীর আবক্ষ ভাস্কর্য রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মঞ্চের মাঝের স্তম্ভটি ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত কালো কাপড় দিয়ে বাঁধা। ভাস্কর্য কালো কাপড় দিয়ে বাঁধা থাকার বিষয়ে স্থানীয় একাধিক দোকানির সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। শহীদুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় চা বিক্রেতা জানান, তিনি শুরু থেকেই এই অংশটি ঢাকা দেখেছেন। মোহাম্মদ রাকিব নামের একজন খাবার হোটেলের কর্মী জানান, গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে তিনি তিন-চারজনকে মঞ্চে কালো কাপড় দিয়ে ভাস্কর্য বাঁধতে দেখেছেন।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। 'চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে উত্তরা' নামের একটি সংগঠনের সদস্য মনীষা মাফরুহা অভিযোগ করেন, কালো কাপড়ের নিচে থাকা ভাস্কর্যের চারটি নারী অবয়ব সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, গত শনিবার ১০ জন নারীর স্মরণে সংগঠনের সদস্যরা মঞ্চসংলগ্ন এলাকায় গাছের চারা লাগাতে যান। তিনি জানান, তখন ভাস্কর্যগুলো খোলা অবস্থায় দেখেছিলেন, কিন্তু পরদিন সকালে পুনরায় কাপড় দিয়ে ঢাকা পাওয়া যায়।

মনীষা মাফরুহা আরও জানান, গত ১৮ ডিসেম্বর মঞ্চটি উদ্বোধনের কথা ছিল, কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তৎকালীন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নির্দেশে ভাস্কর্যটি ঢেকে রাখা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় তারা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মঞ্চটির সাবেক উদ্বোধক ও তৎকালীন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানান, তার উদ্যোগেই এটি নির্মিত হয়েছিল, তবে নির্মাণের সময় তিনি উগ্রপন্থীদের হুমকি পেয়েছিলেন। বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটির অঞ্চল-৬-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo