Facebook Twitter Instagram YouTube

বড় ঋণগ্রহীতাদের ১৫ বছরের বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩১, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ /
বড় ঋণগ্রহীতাদের ১৫ বছরের বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বড় অঙ্কের ঋণে জর্জরিত শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নীতি সহায়তা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি) থেকে জারি করা ৩০ নম্বর সার্কুলার লেটারে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন এই নির্দেশনায় বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেসব একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ঋণের স্থিতি ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি, তারা ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ পুনঃতফসিলের সুবিধা পাবে। এর আওতায় সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ১৫ বছর পর্যন্ত ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। এছাড়া বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৬/২০২২-এ নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত আরও চার বছর সময় পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আগে দেওয়া নীতি সহায়তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। যারা আগে নীতি সহায়তা সংক্রান্ত বাছাই কমিটির মাধ্যমে সুবিধা নিয়েছেন, তারাও নতুন করে এই বাড়তি সুবিধা নিতে পারবেন। তবে নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ঋণের শ্রেণিমান অনুযায়ী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত ঋণ বিশেষ পুনর্গঠন এবং বিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণ বিশেষ পুনঃতফসিলের আওতায় আসবে।

এই সুবিধা পেতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত স্ব-স্ব ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট গ্রহণের পর আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করতে হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৯(১)(চ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তবে ১ হাজার কোটি টাকার কম ঋণের ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫-এর শর্তাবলী বহাল থাকবে।

এর আগে নেওয়া গ্রেস পিরিয়ডের সময় নতুন করে গণনা করা হবে না এবং ইতিমধ্যে অতিবাহিত হওয়া সময় নতুন গ্রেস পিরিয়ডের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি একটি বড় নীতি সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হলেও, ব্যাংক খাতের ঋণ শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পুনঃতফসিল ও অতিরিক্ত ছাড়ের ফলে খেলাপি ঋণ আদায়ের হার এবং ব্যাংক খাতের ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin