Facebook Twitter Instagram YouTube

সুন্দরবনে ৪ বাহিনীর ৫২ জলদস্যুর একযোগে আত্মসমর্পণ


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ /
সুন্দরবনে ৪ বাহিনীর ৫২ জলদস্যুর একযোগে আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মুখে ৪টি সক্রিয় বাহিনীর ৫২ জন জলদস্যু একযোগে আত্মসমর্পণ করেছেন। গত রোববার (৩১ আগস্ট) সুন্দরবনের এসব দস্যু বাহিনীর সদস্যরা র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‌্যাব-৬ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

র‌্যাব-৬-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণকারীরা সুন্দরবনের ৪টি সক্রিয় জলদস্যু বাহিনীর সদস্য। এদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন সদস্য রয়েছেন। প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পর যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হয়ে আসছিলেন। এসব অপরাধ দমন ও সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে র‌্যাব। এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের কারণে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলেন। তবে সম্প্রতি সুন্দরবনে নতুন কয়েকটি দস্যুচক্রের তৎপরতা শুরু হওয়া এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারীদের কয়েকজনের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়ায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরালো তৎপরতা, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধজগতের অনিশ্চিত জীবনের কারণে এই দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই ফলশ্রুতিতে ৪টি বাহিনীর ৫২ জন সদস্য একযোগে আত্মসমর্পণ করেছেন।

এদিকে বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন করার পাশাপাশি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার ঠিক আগের দিন এই ৫২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণকে বনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে র‌্যাব। এর ফলে বনে নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ অন্যান্য বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

র‌্যাব-৬ জানিয়েছে, সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ সব ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে তাদের নিয়মিত অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে এসব অপরাধের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে বনের অবৈধ কাঠ ও বনজ সম্পদ আহরণ, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারসহ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করাও সহজ হবে। সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বনজীবীদের জীবন-জীবিকা ও বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় র‌্যাব সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh