Facebook Twitter Instagram YouTube

মিয়ানমার থেকে চীনে পাচার হচ্ছে নারীরা, বাড়ছে মানবপাচারের ভয়াবহ ব্যবসা


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৩, ২০২৬, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ / ০
মিয়ানমার থেকে চীনে পাচার হচ্ছে নারীরা, বাড়ছে মানবপাচারের ভয়াবহ ব্যবসা

মিয়ানমারে চলমান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দেশটিতে নারীদের চীনে পাচার করার ভয়াবহ ব্যবসা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। জান্তা সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই দেশটিতে ৮০টি মানবপাচারের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি ঘটনায় মিয়ানমারেই ভুয়া বিয়ের আয়োজন করে পরে ভুক্তভোগীদের চীনে পাচার করা হয়েছে।

পাচারকারীরা নারীদের লোভনীয় প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলছে। যেমন, মান্দালয় অঞ্চলের এক ২০ বছর বয়সী তরুণীকে চীনা ব্যক্তির সন্তান জন্ম দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি ৫০ লাখ কিয়াত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ইয়াঙ্গুনের এক পোশাক কারখানার ২৮ বছর বয়সী কর্মীকে ছয় মাসের জন্য চীনা নাগরিককে বিয়ের বিনিময়ে ৮০ লাখ কিয়াতের প্রলোভন দেখানো হয়। নেপিডোর এক ২৪ বছর বয়সী নারীকে ভুয়া চাকরির কথা বলে চীনে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার বিক্রি করার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া ইয়াঙ্গুনের এক নারীকে ২ কোটি কিয়াতের দেনমোহরে চীনা নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

এই মানবপাচার এখন আর শুধু সীমান্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে। গত মার্চে তাইওয়ানের নিউ তাইপেই শহরে একটি চক্র ভেঙে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৯ জন মিয়ানমারের নারীকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে এই চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্চ বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে নারীদের ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক শ্রম ও যৌন শোষণের শিকার করছে। গত মাসে ব্যাংককে থাই পুলিশ এক চীনা চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা অন্তত ২০ জন মিয়ানমারের নারীকে চীনে পাচার করেছে।

চীনের দূতাবাস এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজেদের নাগরিকদের সীমান্ত পেরিয়ে পাত্রী খোঁজার বিষয়ে সতর্ক করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গৃহযুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও চরম দারিদ্র্যের কারণে মিয়ানমারের নারীরা পাচারকারীদের সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে আইনের শাসনের অবক্ষয় ও অর্থনৈতিক ধসের কারণে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পাচারকারীরা এখন উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের ফাঁদে ফেলছে, যা এই অপরাধের পরিধিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin