
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারকারী একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিচার শুরু হয়েছে। প্রায় সাত বছর আগে ব্রাজিলে গ্রেপ্তার হওয়া এই বাংলাদেশিকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। সোমবার টেক্সাসের লরেডো ফেডারেল আদালতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সোপর্দ করা হয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে মানবপাচারের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে ৮ জুলাই বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় ব্রাজিলের পুলিশ তাকে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে।
তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাইফুল্লাহ আল-মামুন অবৈধভাবে মানুষ পাচারের এই চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি জনপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্রাজিল, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ এবং মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ব্যবস্থা করতেন। পাচারের শিকার যুবকদের প্রথমে সাও পাওলোর একটি ক্যাম্পে রাখা হতো এবং পরে মেক্সিকোর তাপাচুলা ও মন্তেররেই হয়ে রিও গ্রান্দে নদী পার করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হতো।
এফবিআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রের অপর দুই সদস্য মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন মেক্সিকোতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই সাইফুল্লাহকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। টেক্সাসের ফেডারেল আদালত মিলন ও মোক্তারকে ৪৬ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। বিচার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দোষ স্বীকার করায় তারা তুলনামূলক কম সাজা পেয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাইফুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
মার্কিন বিচার বিভাগের বিশেষ উদ্যোগ ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (জেটিএফএ)’ এই আন্তর্জাতিক চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। এখন পর্যন্ত ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪১৪ জনের সাজা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে এই চক্রের আরও সদস্যদের চিহ্নিত করা হয়েছে। চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য বর্তমানে বাংলাদেশের ঢাকা, নোয়াখালী ও সিলেটে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :