
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে লালন মোল্যা (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার পরপরই অভিযুক্তকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলাটি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, কারাদণ্ডাদেশটি আসামির আগের কারাবাস থেকে গণ্য করা হবে। অভিযুক্ত লালন মোল্যা ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী গ্রামের আবুল হোসেন মোল্যার ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে লালন মোল্যা ও সাজেদা বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ফরিদপুর শহরের আলীপুর এলাকায় একটি বাসায় বসবাস শুরু করেন, যেখানে লালন নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সাজেদা বেগমকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন লালন। এক পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। দাবি করা টাকা না পাওয়ায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে হাতুড়ি দিয়ে সাজেদা বেগমের মুখমণ্ডল ও শরীরে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাসের দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনার দিন ভোররাতে লালন হাতুড়ি দিয়ে সাজেদা বেগমের বাম গাল, চোখের ভ্রু, চোখ, নাক, কপাল ও ডান কাঁধসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে জখম করেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান যে তিনি ঝামেলায় পড়েছেন। পরে বাড়ির ম্যানেজার ঘটনাস্থলে গিয়ে সাজেদা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্ত লালনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় নিহতের বোন মাজেদা বেগম ২৬ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :