
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন কিছু অযোগ্যতার শর্ত যুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় চার নির্বাচন কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং জেলা পরিষদ—এই পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনগুলোকে আরও যুগোপযোগী ও সুবিন্যস্ত করার লক্ষ্যে কমিশন এই আলোচনা করেছে। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হবেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ঋণখেলাপির গ্যারান্টার, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ভূমি করসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার বিলখেলাপিরা। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্ণধার যদি প্রতিষ্ঠানের নামে বকেয়া রাখেন, তবে সেটিও অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার বিষয়েও কমিশন একমত হয়েছে। আখতার আহমেদ আরও জানান, স্থানীয় সরকার আইনের সব স্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণ বিধিমালাও সংশোধন করা হবে।
ইসি সচিব জানান, আইন সংশোধনের এই প্রস্তাবগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়া, তাই স্থানীয় সরকার বিভাগ যদি প্রস্তাবগুলোকে উপযুক্ত মনে করে, তবে তারা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কমিশন যত দ্রুত সম্ভব এই প্রস্তাবগুলো পাঠাতে আগ্রহী।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, বর্তমানে ১৬ বছর ও তদুর্ধ্ব বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কোন বয়সসীমা বা শিক্ষাগত যোগ্যতার স্তর পর্যন্ত নামিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আপনার মতামত লিখুন :