Facebook Twitter Instagram YouTube

বিজয় দিবসের আগেই ঝিনাইদহে নতুন করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্য


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ /
বিজয় দিবসের আগেই ঝিনাইদহে নতুন করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্য

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে স্থাপিত সেই ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগেই নতুন ভাস্কর্য স্থাপন ও অসম্পূর্ণ ভাস্কর্য অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন। এছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ, নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক নেতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

গঠিত ১৪ সদস্যের এই কমিটিতে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায়, জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা মো. হাফিজুর রহমান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ অন্যরা রয়েছেন।

সভায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা মো. হাফিজুর রহমান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের মোড়ে ভাস্কর্যটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু গত ১৪ জুলাই তিনি পত্রপত্রিকায় দেখেন যে ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, তার চাচা ঝিনাইদহ ও বাংলাদেশের গর্ব, তাই ভাস্কর্য ভাঙার বিষয়টি পরিবার মেনে নিতে পারছে না। তারা একই স্থানে বা উপযুক্ত স্থানে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য ও চত্বর পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।

জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ সভায় বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের কোনো অবমাননা হতে দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে চত্বরটি নির্মাণে ব্যাপক লুটপাট হয়েছিল এবং এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। দীর্ঘ দিন অবহেলায় পড়ে থাকায় জায়গাটি মাদক সেবনের স্থানে পরিণত হয়েছিল।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামালউদ্দিন বলেন, ভাস্কর্যটি অসম্পূর্ণ ছিল এবং অনেক মানুষই জানত না সেখানে কার ভাস্কর্য ছিল। সম্প্রতি ভাঙার কাজ শুরু হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা স্থগিত করা হয়। তিনি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য স্থাপনের দাবি জানান।

জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, ২০১৯ সাল থেকেই স্থাপনাটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। এখন জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে উপযুক্ত স্থানে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে। আগামী বিজয় দিবসে এটি উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে কমিটি কাজ করছে। প্রসঙ্গত, ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে নির্মিত ভাস্কর্যটি গত ১৩ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ভাঙা হচ্ছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার পর প্রশাসন কাজ স্থগিত করে। ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের কাজ অজ্ঞাত কারণে শেষ করা হয়নি এবং দুই দফা মেয়র পরিবর্তন ও প্রশাসক নিয়োগের পরও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। ২০২৪ সালের সরকার পতনের পর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের এ ভাস্কর্যটি হামলার শিকার হয়। স্থানীয়দের দাবি, চত্বরটির উচ্চতার কারণে চারমুখী মোড়ে যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, যার ফলে নির্মাণকাজ শেষ না করেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy