
দেশে বর্তমানে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় চার কোটি এবং চাকরির একটি পদের বিপরীতে ৫ থেকে ৬ লাখ পর্যন্ত আবেদন জমা পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকায় এই বেকারত্ব সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। রোববার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনুষদের লেভেল-১, সেমিস্টার-১ শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে অফিস সহকারীর মতো সাধারণ পদের জন্যও হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ছে। চাকরির বাজারের এই তীব্র প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার 'ক্রিয়েটিভ ইকোনমি' বা সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে, যার মাধ্যমে কামার, কুমার, তাঁতি, শিল্পী ও খেলোয়াড়সহ সব পেশার মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। এছাড়া তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কৃষি খাতের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলকে ইতিমধ্যে 'অ্যাগ্রিকারচার হাব' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতি হতে হবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে। গত ১৭ বছরে দেশের সব প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেসব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই কাজ অত্যন্ত কঠিন এবং এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে 'কৃষক কার্ড' চালু করা হয়েছে। এছাড়া কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পচনশীল পণ্য সংরক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করে স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি বাড়াতে কাজ চলছে। তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা এবং উদ্ভাবনী কাজে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আবদুল লতিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবুল বাশার, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সানজিদা ইসলাম এবং মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান। অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীরাও নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :