Facebook Twitter Instagram YouTube

বিশ্ব বাঘ দিবস: সুন্দরবনে বাঘের আবাসস্থল ও অস্তিত্বের সংকট


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ / ০
বিশ্ব বাঘ দিবস: সুন্দরবনে বাঘের আবাসস্থল ও অস্তিত্বের সংকট

আজ ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল, যা বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে। তবে বন ধ্বংসের ফলে আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, খাদ্য সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং চোরা শিকারের কারণে বাঘের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে।

বন বিভাগের সর্বশেষ ২০২৪ সালের ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপ অনুযায়ী, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি। এর আগে ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০৬টি এবং ২০১৮ সালে ছিল ১১৪টি। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সুন্দরবনের প্রতি ১০০ কিলোমিটারে বাঘের ঘনত্ব প্রায় ২ দশমিক ১৭টি।

সুন্দরবন রক্ষায় ‘আমরা’র সমন্বয়কারী নুর আলম শেখ জানান, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টি বাঘকে পিটিয়ে বা শিকার করে হত্যা করা হয়েছে, ৩০টি মারা গেছে বার্ধক্য বা অসুস্থতায় এবং ৩টি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, হরিণ শিকারিদের দাপট ও বনদস্যুদের অবাধ বিচরণে বাঘের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে এবং অনেক সময় বাঘ হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকা পড়ছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক সামিউল হক বাঘের নিরাপত্তার জন্য হরিণ শিকার কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, একটি পুরুষ বাঘের জন্য ৬০ থেকে ১৫০ বর্গকিলোমিটার এবং স্ত্রী বাঘের জন্য ২০ থেকে ৬০ বর্গকিলোমিটার টেরিটরি প্রয়োজন। বাঘের বংশবৃদ্ধি ও বিচরণ নিশ্চিত করতে বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, আইনের সংশোধন, চোরা শিকারিদের নেটওয়ার্ক ভাঙা এবং ক্যামেরা ট্র্যাকিং ও রেডিও কলারের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লা হারুন জানান, সুন্দরবনে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় বাঘের বংশবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। বাঘের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিতে বনে মানুষের প্রবেশ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এরই মধ্যে ১৩৫ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকার সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে। দস্যুদল আত্মসমর্পণ করেছে এবং হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। এর আগে হরিণ শিকারির ফাঁদে আহত একটি বাঘকে উদ্ধার করে ছয় মাস চিকিৎসার পর পুনরায় সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

সুন্দরবন রক্ষায় ‘আমরা’র সমন্বয়কারী নুর আলম শেখ জানান, ২০২১-২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh