
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারির নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির ফেডারেল আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে।
এই খবরটি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে নানামুখী আলোচনা চলছে। অনেকেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। তবে বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ২০২৭ সালের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশ যোগ্য দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না। এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই আগ্রহীদের মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্যানুসারে, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি এই ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন বলে বাংলাদেশ এই যোগ্যতা হারিয়েছে। ডিভি কর্মসূচি মূলত সেই দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলকভাবে কম।
ডিভি লটারি সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত। এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসী পাঠায় এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নির্বাচিত আবেদনকারীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন। অন্যান্য অনেক কর্মভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার মতো এই লটারিতে অংশ নিতে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন হয় না।
তবে লটারিতে নির্বাচিত হলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ, কাগজপত্র জমা এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। আবেদনের জন্য সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী পেশায় কাজের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন চালু থাকতে পারে। তবে আবেদনের চূড়ান্ত সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত ও আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :