
বিশ্বজুড়ে নেটওয়ার্কের ব্যবহার ক্রমশ এআই-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল সেবা এবং আপলিংকনির্ভর হয়ে ওঠায় মিড ব্যান্ডের স্পেকট্রামের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই ব্যান্ডের স্পেকট্রাম নেটওয়ার্কের কভারেজ ও গতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে এআই-এর বৈশ্বিক বাজারের আকার ৬৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এই সময়ে বাজারটি ২৭ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সফটওয়্যার ও তথ্যসেবা, ব্যাংকিং এবং রিটেইল খাত এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এই তিন খাতের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ২২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, আর্থিক সেবা এবং রিটেইল খাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নেটওয়ার্কে তথ্য তৈরি ও প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। বর্তমানে ইন্টেলিজেন্ট অ্যাসিস্টেন্ট, স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থা এবং জেনারেটিভ কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মের মতো অ্যাপ্লিকেশনে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব সেবা ক্লাউডভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় নেটওয়ার্কে ডেটা আদান-প্রদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ফলে নেটওয়ার্কের ব্যবহার এখন শুধু ব্যবহারকারীদের যোগাযোগের ওপর নয়, বরং ব্যবহারকারী-থেকে-ক্লাউড, মেশিন-থেকে-ক্লাউড এবং এআই-থেকে-এআই যোগাযোগের ওপরও নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৬ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে ইউ৬গিগাহার্টজ নেটওয়ার্ক চালু করে। বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে দেশটি বড় পরিসরে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে। টেলিকমিউনিকেশনস অ্যান্ড ডিজিটাল গভর্নমেন্ট রেগুলেটরি অথরিটি (টিডিআরএ)-এর নেতৃত্বে হুয়াওয়ে, ডিইউ, ই-অ্যান্ড, জিএসএমএ, নকিয়া, অনার, টোজেড এবং সামেনা টেলিকমিউনিকেশনস কাউন্সিলের মতো সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান ডেটার ব্যবহার এবং এআই-নির্ভর নেটওয়ার্ক ট্রাফিকের চাহিদা পূরণ করতে এই পদক্ষেপ মোবাইল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করছে। একই সঙ্গে, ফাইভজি-অ্যাডভান্সড ও ভবিষ্যতের সিক্সজি প্রযুক্তির প্রাথমিক প্রয়োগের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘১০-গিগাবিট ইন্টেলিজেন্ট নেশন’ গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এটি ভূমিকা রাখছে।
ইউ৬গিগাহার্টজ (৬৪২৫–৭১২৫ মেগাহার্টজ) ‘গোল্ডেন স্পেকট্রাম’ হিসেবে পরিচিত। এটি অবিরতভাবে ৭০০ মেগাহার্টজের ব্যান্ডউইথ দিতে পারে, যা বিস্তৃত কভারেজ এবং উচ্চ ডেটা ধারণক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করে। ফাইভজি-অ্যাডভান্সড প্রযুক্তির বিকাশে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ের ফাইভজিতে মূলত ডাউনলিংক-নির্ভর ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো, কিন্তু এখন ফাইভজি-অ্যাডভান্সড আপলিংক ও ডাউনলিংক—উভয় দিকেই ভারসাম্যপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে থ্রিজিপিপি রিলিজ ১৮, যেখানে এআই সক্ষমতার মান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কোর নেটওয়ার্ক, রেডিও অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক (আরএএন) ও এয়ার ইন্টারফেসজুড়ে এআই এবং মেশিন লার্নিংয়ের সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।
এআই-নির্ভর সেবা ও ডেটা ব্যবহারের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বর্তমানে ব্যবহৃত ৩.৫ গিগাহার্টজের মতো মিড-ব্যান্ড স্পেকট্রামের ওপর এককভাবে নির্ভর করলে ভবিষ্যতে নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। তাই ফাইভজি-অ্যাডভান্সডের কর্মক্ষমতা ও ধারণক্ষমতা নিশ্চিত করতে ইউ৬গিগাহার্টজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চীনের ফাইভজি-অ্যাডভান্সড রোডম্যাপে ক্যারিয়ার অ্যাগ্রিগেশন, ডাইনামিক স্পেকট্রাম শেয়ারিং এবং সাপ্লিমেন্টারি আপলিংক কনফিগারেশন ব্যবহার করে আপলিংকের গতি ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বিত ইউ৬গিগাহার্টজ পোর্টফোলিও আল্ট্রা-লার্জ ব্যান্ডউইথের সর্বোচ্চ সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। মাল্টিমোডাল ইন্টারঅ্যাকশন এবং ক্লাউডভিত্তিক ইনফারেন্সের কারণে এআইভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে আপলিংক ট্রাফিকের চাহিদা তিন থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়ছে। ২০২৬ সালের মধ্যেই ইউ৬গিগাহার্টজ ব্যবহার উপযোগী নেটওয়ার্ক ডিভাইস এবং স্মার্টফোন বাজারে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা এআই-নেটিভ মোবাইল ইকোসিস্টেমের অংশ হিসেবে ইনডোর, আউটডোর এবং ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্কজুড়ে সহজে সম্প্রসারণযোগ্য অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
এতে সর্বোচ্চ ৪০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইথের সমন্বিত ব্যবহার, উন্নত ইএলএএএ (এক্সট্রিমলি লার্জ অ্যান্টেনা অ্যারে) ভিত্তিক এএইউ (অ্যাকটিভ অ্যান্টেনা ইউনিট) আর্কিটেকচার এবং ম্যাক্রো, মাইক্রো ও ইনডোর স্মল-সেল নেটওয়ার্কের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম দেখানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :