Facebook Twitter Instagram YouTube

সার সংকটে খাদ্য উৎপাদনে বড় ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ: জাতিসংঘ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ /
সার সংকটে খাদ্য উৎপাদনে বড় ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ: জাতিসংঘ

হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদন নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটির মতে, সার সরবরাহে এই বিঘ্ন দীর্ঘায়িত হলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা গুরুতর হুমকির মুখে পড়বে।

ডব্লিউএফপির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ তার মোট ইউরিয়া সারের প্রায় ৮০ শতাংশ সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করে থাকে। যদিও বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ইউরিয়া মজুত রয়েছে তা দিয়ে অক্টোবর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব, তবে এরপরই বড় ধরনের সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আমদানি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। গ্যাস সংকটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে তিনটিই বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। ডব্লিউএফপির আশঙ্কা, যদি এই সংকট অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার কবলে পড়তে পারেন।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা বেড়েই চলেছে। লোহিত সাগরে সৌদি আরবগামী দুটি তেলবাহী জাহাজ ‘এনসেলিয়া’ (ENCELIA) এবং ‘লায়লা’ (LAYLA)-তে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি (আনসার আল্লাহ)। গত ২৩ জুলাই দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি ও সার বাজারে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din