
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দৌড়ে এগিয়ে থাকার লক্ষ্যে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। এই বিশাল ব্যয়ের প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থিতিতে। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো অ্যালফাবেটের নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অ্যালফাবেটের অবাধ নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো তৈরির পেছনে ব্যাপক ব্যয়ের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অ্যালফাবেটের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আনাত আশকেনাজি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি ৪৫ বিলিয়ন ডলার মূলধনী ব্যয় করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে সার্ভার স্থাপনের কাজে এবং বাকি ৪০ শতাংশ খরচ হয়েছে ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও সম্প্রসারণের পেছনে। আশকেনাজির ভাষ্যমতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বর্তমানে বিনিয়োগের গতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই বিপুল ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর গুগলের শেয়ারদর প্রায় ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে অ্যালফাবেটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বার্ষিক মোট বিনিয়োগ ১৯৫ থেকে ২০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি।
তবে এই ব্যয়ের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক আয় বৃদ্ধির ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে অ্যালফাবেটের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১১৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই এ প্রসঙ্গে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সম্ভাবনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদে এই বিনিয়োগ ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সেবা এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুফল বয়ে আনবে।
আপনার মতামত লিখুন :