Facebook Twitter Instagram YouTube

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য সরকারের: প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ /
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য সরকারের: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে তার সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আজ দুপুরে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলনে তিনি এই অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা প্রসারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন ও দূরদর্শী বর্তমান সরকার বিনিয়োগকারীদের পাশে থেকে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে সব ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বিনিয়োগকারীদের কেবল বাংলাদেশে আসার আহ্বানই জানাননি, বরং এই রূপকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ারও উদাত্ত আহ্বান জানান।

বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামোর আধুনিকায়ন করছে এবং বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা উন্নত করছে। এছাড়া কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ, মুনাফা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করা, শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠন, স্টার্টআপদের উৎসাহ প্রদান এবং সরকারি সেবাসমূহ ডিজিটালাইজেশনের কাজ চলছে। তিনি নবায়নযোগ্য শক্তি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকসের মতো বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা দেওয়ার কথাও জানান।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে একটি বৃহৎ উৎপাদন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। পোশাক শিল্পকে বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রযুক্তি ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও দ্রুত বিকাশমান অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের মতো অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্মেলনে প্রায় ৬শ' বিশিষ্ট প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার জন্য বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তার নিজেরও ব্যবসায়ী হিসেবে বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি জানেন যে প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালা ব্যবসার সাফল্যের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, ফিকির সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী এবং বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে ‘ফিকি এফডিআই’ প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়, যেখানে বিনিয়োগ পরিবেশ শক্তিশালী করার সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh