Facebook Twitter Instagram YouTube

১,১৫৫ কোটি টাকায় আধুনিক রূপ পাচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ /
১,১৫৫ কোটি টাকায় আধুনিক রূপ পাচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ

দেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজকে (ঢামেক) জীর্ণ দশা থেকে মুক্ত করে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ক্যাম্পাসে রূপান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনগুলো ভেঙে নতুন অবকাঠামো গড়ে তুলতে ১ হাজার ১৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার একটি বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

‘ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাসমূহ প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।

নতুন এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলাবিশিষ্ট আবাসিক কোয়ার্টার, ৮০০ আসনের ১৫ তলা শিক্ষার্থী হোস্টেল এবং ১৫ তলার একটি আধুনিক academic ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে থাকবে চারটি লেকচার থিয়েটার, দুটি পরীক্ষা কক্ষ, একটি সার্ভিস ভবন এবং ৮০০ মুসল্লি ধারণক্ষমতার চার তলাবিশিষ্ট একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। প্রকল্প এলাকায় অভ্যন্তরীণ সড়ক, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ওয়াকওয়ে এবং বাউন্ডারি ওয়ালসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক অবকাঠামোও তৈরি করা হবে।

canআধুনিকায়নের পাশাপাশি এই নতুন ক্যাম্পাসে পরিবেশবান্ধব নানা সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (রেন ওয়াটার হার্ভেস্টিং), আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফায়ার হাইড্রেন্ট, পানি সাশ্রয়ী স্যানিটেশন ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক লিফট এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী আলোকসজ্জা।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহারের ফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন ও শিক্ষার্থীদের হোস্টেলগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটও তীব্র রূপ নিয়েছে। মূলত এই আবাসন সংকট দূর করতে এবং দেশে চিকিৎসা শিক্ষার মান আরও উন্নত করতেই এই মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধীনে প্রায় ৬০টি ভবন রয়েছে। এখানে মাত্র ২ হাজার ৬০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এছাড়া এমবিবিএস ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন।

প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মাজহারুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের জায়গায় অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন অবকাঠামো গড়ে উঠবে। এর ফলে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার মান অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din