Facebook Twitter Instagram YouTube

সীতাকুণ্ড পৌরসভায় ১২ বছর ধরে অফিসকক্ষেই বসবাস নির্বাহী কর্মকর্তার


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ণ /
সীতাকুণ্ড পৌরসভায় ১২ বছর ধরে অফিসকক্ষেই বসবাস নির্বাহী কর্মকর্তার

সীতাকুণ্ড পৌরভবনের দাপ্তরিক কক্ষকেই নিজের আবাসস্থল বানিয়ে প্রায় এক যুগ ধরে বসবাস করছেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলাম। দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি এই কক্ষটি ব্যক্তিগত আবাসিক হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন। নজরুল ইসলামের দাবি, ব্যক্তিগত কোনো সুবিধার জন্য নয়, বরং রাতের বেলায় পৌরভবন পাহারা দেওয়ার প্রয়োজনেই তিনি সেখানে অবস্থান করেন।

তবে এই কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি ভবনের দাপ্তরিক কক্ষ আবাসিক ব্যবহারের পাশাপাশি একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর অবস্থান এবং বদলি আদেশের পরও সীতাকুণ্ডে থেকে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এছাড়া গত জুন ও জুলাই মাসে পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল চার লাখ টাকার বেশি হওয়ায় সরকারি সম্পদের ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।

বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে নজরুল ইসলাম জানান, চার লাখ টাকার বেশি বিল শুধু পৌরভবনের নয়, এর মধ্যে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের সড়কবাতির বিলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, পৌরসভায় কার্ড মিটার না থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ গড় হিসাবের ভিত্তিতে বিল তৈরি করে এবং দুই মাসের বিল একসঙ্গে হওয়ায় মোট অঙ্কটি বড় দেখিয়েছে। তবে সমালোচকদের দাবি, পৌরভবন এবং সড়কবাতির বিদ্যুৎ খরচের খাতভিত্তিক কোনো হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিদ্যুৎ খরচ সরকারি মিটারে যুক্ত হয়ে থাকলে তার দায়ভার কীভাবে পরিশোধ করা হয়েছে, তা নিয়েও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

সীতাকুণ্ড পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শামসুল আলম আজাদ জানান, ২০০৮ সালে যোগদানের পর বিভিন্ন সময়ে বদলি হলেও নজরুল ইসলাম ২০১৫ সাল থেকে প্রায় একটানা সীতাকুণ্ডে কর্মরত আছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ২১ মে ২০২৪ সালের একটি আদেশে তাঁকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভায় বদলি করা হয়েছিল। তবে তিনি সেই আদেশে যোগ না দিয়ে সীতাকুণ্ডে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। এই আদেশ পরবর্তীতে স্থগিত বা বাতিল হয়েছে কি না, তা সরকারি নথি ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও নানা অস্বস্তি রয়েছে। স্থানীয় যুবদল নেতা জিয়া উদ্দিন জিয়ার দাবি, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুন্নবীর মধ্যে ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর বিষয়টিকে তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, একজন কর্মকর্তা কীভাবে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকেন এবং বদলি আদেশের পরও সেখানে অবস্থান করেন, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

সর্বশেষ বদলি আদেশে মো. নজরুল ইসলামকে নরসিংদীর শিবপুর পৌরসভায় পদায়ন করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেখানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে ২ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জুন-জুলাইয়ের বিদ্যুৎ বিল, মিটার রিডিং, বদলি আদেশের প্রশাসনিক অবস্থা এবং দাপ্তরিক কক্ষ আবাসিক ব্যবহারের অনুমোদনের বিষয়টি যাচাই করা হোক।

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৫৮আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ০০

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh