
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে শিক্ষাকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বুধবার চীনে আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। দুই দেশের মানুষের মধ্যকার সংযোগ বা পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি জোরদার করতে শিক্ষা, গবেষণা ও কারিগরি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো এর বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’। তবে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা অতিরিক্ত তত্ত্বনির্ভর থাকায় শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্র এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পিছিয়ে ছিল। এই পরিস্থিতি উত্তরণে বর্তমান সরকার শিক্ষাকে আরও কর্মমুখী ও প্রায়োগিক করে তুলতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
দেশের তরুণদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখতে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে (TVET) অগ্রাধিকার দিয়ে তা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে মান্দারিন বা চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাক্রমের সঙ্গে শ্রমবাজারের প্রত্যক্ষ সংযোগ ঘটাতে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক র্যাংকিং ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রশংসা করে মাহদী আমিন বলেন, চীনের উন্নত গবেষণার সংস্কৃতি ও সফল অভিজ্ঞতা বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে চীনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার স্কলারশিপের সুযোগ বহুগুণে বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে যৌথ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
দুই দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে নিয়মিত শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়ানোর ওপর জোর দেন মাহদী আমিন। তিনি চীনা শিক্ষার্থীদের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ও সামার স্কুলের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসার আহ্বান জানান এবং চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে উভয় দেশকে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে চীনের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে এসে যৌথ অ্যাকাডেমিক ডিগ্রি ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা ‘চায়না-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন ইন্টারন্যাশনাল 서비스 সেন্টার’-এর সাফল্য কামনা করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মেধা ও গবেষণার মেলবন্ধনে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। চমৎকার এই আয়োজনটির জন্য তিনি চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :