Facebook Twitter Instagram YouTube

‘আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?’ হিজাব রায়ে ক্ষুব্ধ ওয়েইসি


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৬, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ /
‘আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?’ হিজাব রায়ে ক্ষুব্ধ ওয়েইসি

স্কুলের ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে দায়ের করা এক স্কুলপড়ুয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই রায়ের কড়া সমালোচনা করে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) প্রধান ও সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি আদালতের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, 'ধর্ম আমাদের। আমরা বুঝব। আদালত কে এই বিষয়ে কথা বলার? ধর্ম বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার হলে আমরা নেব। বিচারপতি কে?'

এলাহাবাদ হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ তাদের পর্যবেক্ষণে জানায়, হিজাব পরা ইসলাম ধর্মের কোনো বাধ্যতামূলক বা অপরিহার্য অংশ নয়। স্রেফ ধর্ম পালনের স্বাধীনতার যুক্তি দেখিয়ে স্কুল ইউনিফর্মের গুরুত্বকে খাটো করা যায় না। আদালত আরও স্পষ্ট করে যে, যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা ও পোশাক বিধি বজায় রাখার অধিকার রয়েছে এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থী তা পরিবর্তনের দাবি করতে পারে না।

আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তার মতে, হাইকোর্টের এই নির্দেশ ভারতীয় সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ (মত প্রকাশের স্বাধীনতা) এবং ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার) সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। বিশেষ করে শবরীমালা মামলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্টের এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।

এই রায় মুসলিম মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মিম সাংসদ। তিনি জানান, উত্তরপ্রদেশে স্কুল শিক্ষায় মুসলিম নারীদের ভর্তির হার এমনিতেই গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত তাদের শিক্ষাজীবনকে আরও বাধাগ্রস্ত করবে। হিজাবের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, 'মেয়েরা হিজাব মাথায় পরে, মনে নয়। সমতার অর্থ এই নয় যে সবার ওপর একই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হবে।'

মামলাটির পটভূমি থেকে জানা যায়, আবেদনকারী ছাত্রীটি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ওই স্কুলেই ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরে ক্লাস করত। তখন স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো আপত্তি ছিল না। তবে একাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে সমস্যা শুরু হয়। এরপরই ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবে হিজাব পরে স্কুলে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় ওই শিক্ষার্থী। তবে আদালত জানায়, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে হিজাব পরা যে ইসলামের একটি অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা, তার সপক্ষে কোনো ধর্মীয় প্রমাণ মেলেনি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin