Facebook Twitter Instagram YouTube

দ্বৈত নাগরিকত্ব বিতর্ক: মন্ত্রী হওয়ার আইনি বাধা নিয়ে আলোচনা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ /
দ্বৈত নাগরিকত্ব বিতর্ক: মন্ত্রী হওয়ার আইনি বাধা নিয়ে আলোচনা

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন শপথ নেওয়া প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, নতুন পদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তার বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে তাকে সরাসরি প্রশ্ন করলে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে বরং উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘কে এটা নিয়ে নিউজ করেছে, কার এত জ্বালা?’

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুমায়ুন কবির শৈশব থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাসের সুবাদে সেদেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, একজন ব্যক্তি কীভাবে সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন কিন্তু মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত হন? আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি মূলত সাংবিধানিক। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বিবিসি বাংলাকে জানান, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো দেশের নাগরিক হন, তবে তিনি সংসদ সদস্য বা কোনো সাংবিধানিক পদে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন না।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বা আনুগত্য থাকা সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ। যেহেতু মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সাধারণত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দেওয়া হয়, তাই তাদের ক্ষেত্রেও একই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য। এছাড়া সংবিধানের ৫৬ ধারা অনুযায়ী, টেকনোক্র্যাট কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদেরও সংসদ সদস্য হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা থাকতে হবে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিকের মতে, সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্যতা থাকলে কেউ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন না।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এমপি হিসেবে নির্বাচন করার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন। এদিকে, হুমায়ুন কবির গত ছয় মাস প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপদেষ্টা পদটি সাংবিধানিকভাবে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সমতুল্য নয়; এটি মূলত সরকারের একটি প্রশাসনিক বা পরামর্শমূলক দায়িত্ব। ফলে উপদেষ্টা হওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের মতো একই কঠোর সাংবিধানিক শর্ত সবসময় প্রযোজ্য হয় না। এ কারণে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো ব্যক্তি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারলেও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

গত ছয় মাস প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। তাহলে কেন তিনি প্রতিমন্ত্রী হতে পারবেন না সেই প্রশ্নও ছিল বিশেষজ্ঞদের কাছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor