
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি)’ উৎসব চলাকালে উপস্থিত জনতার ওপর একটি গাড়ি তুলে দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে ব্রান্ডেনবার্গ গেটের কাছে টিয়ারগার্টেন পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত একজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর এবং তিনজনের অবস্থা জীবনসংকটের পর্যায়ে রয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একটি সাদা রঙের গাড়ি হঠাৎ করে উৎসবে অংশ নেওয়া জনতার ভিড়ে ঢুকে পড়ে। এরপর গাড়িটি একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি থামার পর সেটির ভেতর কেউ ছিল না এবং চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে ধরতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে।
বার্লিন পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তিনি বার্লিনের ইসলামপন্থী চক্রের পরিচিত সদস্য। এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও তার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জার্মানির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম বিল্ড-এর তথ্যানুযায়ী, এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন যে, একটি ভ্যান থেকে একজনকে নেমে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।
ঘটনার সময় বার্লিনে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ উৎসব ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’-তে কয়েক লাখ মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। হামলা হওয়ার পরপরই শান্তিপূর্ণভাবে চলা অনুষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থলে দ্রুত বিপুলসংখ্যক পুলিশ, দমকল ও জরুরি সেবাকর্মীরা মোতায়েন করা হয়। উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের স্টোনওয়াল বিদ্রোহের স্মরণে এই উৎসবটি আয়োজিত হয়। ১৯৭৯ সালে প্রথম পশ্চিম বার্লিনে শুরু হওয়া এই আয়োজন এখন জার্মানির অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যা বৈষম্যবিরোধী ও সমতার বার্তা প্রচার করে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানিতে জনসমাগমে গাড়ি তুলে হামলার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে মে মাসে লাইপজিগে মানসিক সমস্যা থাকা এক ব্যক্তির হামলায় দুজন নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া গত বছর মানহাইমে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দিলে দুজন নিহত হন এবং মিউনিখের এক শ্রমিক সমাবেশে আফগান বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির গাড়ি হামলায় শিশুসহ ৪০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল।
আপনার মতামত লিখুন :