
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (৩০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. মোক্তাগীর আলম আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত আবুল হোসেন পেশায় একজন ভ্যানচালক। রায় ঘোষণার পর পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী কয়েকজন শিশুর সঙ্গে মাঠে শাক তুলতে গিয়েছিল। সেই সময় শাক তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আবুল হোসেন তাকে খেতের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ আবুল হোসেনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। ২০২৪ সালের ৭ মার্চ তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওই বছরের ৩১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি এম এম শাহজাহান জানান, আদালত মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে এই রায় দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী ওহিদুজ্জামান মুকুল জানিয়েছেন, তাঁরা এই রায়ে সংক্ষুব্ধ এবং ন্যায়বিচারের আশায় উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
আপনার মতামত লিখুন :