
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বহু মানুষ নিহত হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রের তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারতেন, কিন্তু তিনি কোনো ভূমিকা রাখেননি। এছাড়া ৫ আগস্ট পর্যন্ত আয়নাঘর ও গুম-খুনের মতো ঘটনার বিষয়ে তিনি নীরব থেকেছেন, যা অপরাধে তার মৌন সম্মতির শামিল।
বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংকালে জানান, আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধান থাকাকালীন সময়ে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের সহিংসতা, গুম ও খুনের মতো আলোচিত ঘটনাগুলো ঘটেছে। তারা আইনি ভাষায় ‘সুপিরিয়র রিসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, গণহত্যার সময় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকে যারা ফ্যাস্টিস্ট সরকারকে সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দিয়েছেন এবং ক্ষমতার সুবিধাভোগী হয়েছেন, তারা এসব অন্যায়ের দায় এড়াতে পারেন না।
এদিকে, একইদিন দুপুরে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এই অভিযোগ জমা দেন। এতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :