Facebook Twitter Instagram YouTube

কক্সবাজার সৈকতে হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২২, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ / ০
কক্সবাজার সৈকতে হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবনী পয়েন্টে দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে কক্সবাজারে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয় ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সৈকত এলাকা। বুধবার বিকেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এখানে সবাই বাংলাদেশি এবং যার যার মর্যাদা নিয়ে বসবাস করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে বিশ্বাসী এবং সম্প্রীতির চেতনায় উজ্জীবিত। বিসর্জনের সময় ভক্ত ও পূজারীরা বাংলাদেশসহ বিশ্বের শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন।

কক্সবাজার জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, লুৎফুর রহমান কাজল, শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, টুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার নিশাত অ্যাঞ্জেলাসহ অনেকে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, প্রফেসর সোমেশ্বর চক্রবর্তী ও হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টির ঝুলন ধর।

বিকেল ৫টার দিকে মঞ্চ থেকে নিরঞ্জনের মন্ত্র পাঠ করা হয় এবং ৫টা ৭ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একে একে ৫১টি মন্ডপের ২০৫টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিমাবোঝাই ট্রাকগুলো দুপুরের পর থেকেই লাবনী পয়েন্টে জড়ো হতে থাকে।

টানা ছুটির কারণে কক্সবাজারে বিপুল পর্যটকের সমাগম ঘটে। বগুড়া থেকে আসা পর্যটক রহিমা আফরোজ এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক সুমন, কলিম ও পায়েল জানান, বিসর্জন অনুষ্ঠানটি তাদের কাছে একটি নতুন অভিজ্ঞতা এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলনমেলা দেখে তারা আনন্দিত। রাউজানের পর্যটক বাবু কান্তি দে জানান, এত বড় বিসর্জন তিনি আগে কখনো দেখেননি।

নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, প্রতিটি মন্ডপ ও বিসর্জনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। টুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার নিশাত অ্যাঞ্জেলা জানান, সৈকতের তিনটি পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করে ক্যামেরা ও নজরদারির মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান জানান, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে কয়েকটি টিম গত দুই দিন ধরে কাজ করেছে, যার ফলে অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy