Facebook Twitter Instagram YouTube

দারিদ্র্যকে জয় করে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী ক্রিস্তিয়ান রোমেরো


প্রকাশের সময় : জুলাই ৮, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ /
দারিদ্র্যকে জয় করে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী ক্রিস্তিয়ান রোমেরো

ফুটবল মাঠে গোলদাতারা সাধারণত বেশি প্রশংসা পান, কিন্তু কিছু নীরব যোদ্ধা আছেন যারা বুক চিতিয়ে দলের লক্ষ্য রক্ষা করেন। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের এমন একজন অকুতোভয় সৈনিক হলেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। ১৯৯৮ সালের ২৭ এপ্রিল আর্জেন্টিনার কর্দোবা প্রদেশে এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম। ছোটবেলায় নতুন বুট কেনার সামর্থ্য না থাকলেও পরিবারের কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং মা-বাবার অকুন্ঠ সমর্থন তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এই সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়েই তিনি আজ বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারে পরিণত হয়েছেন।

স্থানীয় বেলগ্রানো একাডেমিতে ফুটবলের হাতেখড়ি নেওয়া রোমেরোর ইউরোপীয় ক্যারিয়ার শুরু হয় ইতালির জেনোয়া, ইউভেন্টাস এবং আতালান্তার মাধ্যমে। আতালান্তায় থাকাকালীন ২০২০-২১ মৌসুমে তিনি লিগের সেরা ডিফেন্ডারের পুরস্কার জেতেন। পরবর্তীতে টটেনহ্যাম হটস্পারে যোগ দিয়ে তিনি আরও পরিণত হয়ে ওঠেন। ২০২১ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকেই কোচ লিওনেল স্কালোনির আস্থার পাত্র হয়ে ওঠেন তিনি। কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিলেন এই ডিফেন্ডার।

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার এক কঠিন মুহূর্তে রোমেরো তার বীরত্ব প্রমাণ করেছেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনার জন্য যখন বিদায়ের ঘণ্টা বাজছিল, তখন ৭৯ মিনিটে কর্নার থেকে অসাধারণ এক হেডে গোল করে তিনি দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনেন। সেই গোলটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জয় পায়। কোচ লিওনেল স্কালোনির মতে, রোমেরো দলের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেন এবং তার মধ্যে একজন নেতার সব গুণাবলী বিদ্যমান।

নিজের খেলার দর্শন সম্পর্কে রোমেরো বলেন, তিনি ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দেশের জার্সি পরাকেই বড় মনে করেন। প্রয়োজনে নিজের শরীর দিয়ে বল আটকানোর মানসিকতা নিয়েই তিনি মাঠে নামেন। মাঠের বাইরে তিনি স্ত্রী কারেন কাভায়ের এবং সন্তানদের নিয়ে শান্ত ও বিনয়ী জীবনযাপন করলেও, মাঠে তিনি হয়ে ওঠেন এক নির্ভীক যোদ্ধা। ফুটবলে সব নায়কের গল্প গোল দিয়ে লেখা হয় না, কারোর গল্প লেখা হয় ট্যাকল আর বল রক্ষার অসামান্য দক্ষতায়।

৭৯ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে অসাধারণ এক হেড। বল জড়িয়ে গেল জালে। স্কোরলাইন হলো ২-১। গোলটি শুধু ব্যবধান কমায়নি, আর্জেন্টিনার হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাসও ফিরিয়ে এনেছিল। সেই এক মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের আবহ। কয়েক মিনিট পর মেসির সমতাসূচক গোল, এরপর যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের আগুন প্রথম জ্বালিয়েছিলেন রোমেরোই।