
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাথে শিরোপা লড়াইয়ে দীর্ঘদিনের ব্যবধান ঘুচিয়ে লিভারপুল যখন ২০তম বারের মতো ইংলিশ শীর্ষস্তরের শিরোপা জিতল, তখন সেই সাফল্যের গল্পে বড় জায়গা জুড়ে ছিলেন ডিয়েগো জোতা। ২০ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠে নামা এই পর্তুগিজ তারকা যেন লিভারপুলের এই বিশেষ শিরোপার উপলক্ষটিই শুরু করেছিলেন। ২০২৪-২৫ মৌসুমের শুরুর ম্যাচে ইপ্সউইচের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ে গোল করে তিনিই দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন, যা পরে মোহামেদ সালাহর গোলে নিশ্চিত হয়।
পুরো মৌসুমে ইনজুরির কারণে জোতা নিয়মিত খেলতে না পারলেও, মাঠে থাকা সময়টুকুতে তিনি ছিলেন দারুণ কার্যকর। ২৬ ম্যাচে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিনিট খেলে তিনি ৬টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি ছিলেন ম্যাচের মূল আকর্ষণ; সেখানে ইব্রাহিম কোনাতে এবং সালাহর গোলে তার জোড়া অ্যাসিস্ট ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে তার একমাত্র গোলেই জয় পেয়েছিল লিভারপুল। নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে তিনি দলের জন্য মূল্যবান পয়েন্ট নিশ্চিত করেছিলেন।
ফুলহামের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-২ ড্রয়ের ম্যাচে ৮৬তম মিনিটে সমতাসূচক গোলটি এসেছিল জোতার পা থেকেই। এছাড়া নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এভারটনের বিপক্ষে অ্যানফিল্ডে তার করা ৫৭তম মিনিটের গোলটি ছিল প্রিমিয়ার লিগে সেই মৌসুমে তার শেষ গোল। ক্লাব ফুটবলের বাইরে জাতীয় দলের হয়েও তার অবদান স্মরণীয়। উয়েফা নেশনস লিগ ২০২৪-২৫ মৌসুমে পর্তুগালের হয়ে ডেনমার্কের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় জোতার অ্যাসিস্ট থেকে গনসালো রামোস গোল করে ব্যবধান কমানোর পথ তৈরি করেছিলেন।
এক বছর আগে না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো ডিয়েগো জোতার এই কীর্তিগুলো লিভারপুল ভক্তদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। ২০ নম্বর জার্সির এই তারকার নৈপুণ্য কেবল সংখ্যার হিসেবে নয়, বরং মাঠের লড়াইয়ে তার প্রভাবের কারণেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
উয়েফা নেশনস লিগ ২০২৪-২৫ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম পর্বে সফরকারী পর্তুগাল ১-০ গোলে পরাজিত হয়।
সে ম্যাচটায় শেষ অবধি পর্তুগাল জিতেছিল ৫-২ গোলে।
আপনার মতামত লিখুন :